টাকা ধরিয়ে দিলে আগ্নেয়াস্ত্র ও লোহা কাটার হ্যাকসো ব্লেড ছাড়া বাকি সব মালই এপারে পৌছে যাবে। ডেপুটি যেখানে বসে, তার সামনেই কাঠের গেইট। কাঠের গেইটের চারজন মিয়াসাহেবকে দিবেন চল্লিশ টাকা। সিপাইদের ইনচার্জ সি,আই, ডি মিয়াসাহেবকে বিশ টাকা। একটু আগ বাড়িয়ে ঝর্ণার গেইটের মিয়াসাহেবকে দশ টাকা। ঝর্ণা গেইটের সামনে আমতলায় থাকে দশ-বারোজন লাঠি বাহিনী। তল্লাশীর এখতিয়ার নেই বলে ওদের জন্য বরাদ্দ একমুঠে বিশ টাকা। এইবার চলাচলের রাস্তা ক্লিন। যে এলাকায় থাকেন সেই এলাকার গেইটম্যানকে দশ টাকা এবং আপনার ভবনের দায়িত্বে থাকা মিয়াসাহেবকে দশ টাকা দিলেই প্রথম পর্ব শেষ। এরপর এলাকার সি,আই, ডি মিয়াসাহেব ও জমাদারকে যদি স্বেচ্ছায় গোটা বিশেক টাকা ধরিয়ে দেন তো সন্ধ্যা লকআপের সময় বাড়তি দু’টি লম্বা সালাম পেতে পারেন। টোল প্রদানের এই পরিবহন ব্যবস্থায় রান্না করা খাবার-দাবারসহ পলিথিনে মুড়ায়ে জবাই করা একটি আস্ত খাসি পর্যন্ত অনায়াসে ভিতরে নিয়ে আসতে পারেন। যদি কোন মাল না আনেন, তাহলেও মিয়াসাহেবদের অন্তর্বাস হাতানোর নোংরা পর্বটি পরিহার করার জন্য মহাশয়দের প্রতিজনের হাতে বিনয়ের সাথে একশলা করে সিগারেট ধরিয়ে দিতে হবে। তবে সমস্যা হয়েছিল সেদিন, টাক মাথা ওয়ালা মিয়াসাহেবকে গোল্ডলীফ সিগারেট হাতে দিতেই ভীষণ মাইও করে ফেললেন। আমি অধম কিছুতেই বুঝতে পারি নাই যে মিয়াসাহেব বাহাদুর বেনসন ছাড়া সিগারেট খান না। টাকা না দিলে জেলকোর্ড বহির্ভূত যে কোন জিনিসের জন্যই আপনাকে কেইস টেবিলে putup করা হবে। রায় হবে দন্ডি অথবা সেল ট্রান্সফার। দশ টাকার রেজরের জন্য সেল ট্রান্সফার ঠেকাতে এক হাজার টাকা ঘুষ দেয়া-নেয়ারও রেকর্ড আছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা প্রমাণের তাগিদে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যা putup দেখানোর খড়গ চলে গরীব হাজতিদের উপর। মরার উপর খাঁড়ার ঘা। নগদ টাকা পরিবহনের নিয়মটি ভিন্নতর। গ্রীলের ফাঁক দিয়ে টাকা গ্রহণ করেই রাইটারের হাতে দিয়ে যাবেন। সময় মতো আপনার কক্ষে পৌঁছে যাবে। ক্যারিং চার্জ শতকরা দশ টাকা। তল্লাশী করে বাড়তি নগদ টাকা পাওয়া গেলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। বাজেয়াপ্ত টাকার এক-তৃতীয়াংশ পাবে উদ্ধারকারী এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জমা হবে জেল কোষাগারে। এটাই নিয়ম। টাকার পরিমাণ কম হলে হয়তো মিয়াসাহেবরা চেনামুখ দেখে ছেড়ে দেন কিন্তু মোটা অংকের টাকা হলে এক-তৃতীয়াংশের লোভ সংবরণ করতে পারার কথা নয়।
দেখার গেইটের বাড়তি ঝামেলা পুরান ঢাকার কিছু আনকালচারড
