এই রকম-৩৩ টাকা ডেপুটির, ১৫ টাকা কলিংম্যান ও বাকি ২ টাকা পাবে কল্যাণ-ফান্ড। গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিনশ বন্দীর দেখা আসে। দুই টাকা হারে কল্যাণ ফান্ডে জমা দেয়ার পরও দিনপ্রতি কমপক্ষে হাজার দশেক টাকার ব্যবসা থাকে। আন্তঃবিভাগীয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা নেই। যেদিন যার ডিউটি সেদিনের অর্থপ্রাপ্তিতে তাঁর এখতিয়ার শতভাগ। অতএব এর পুরোটাই পকেটস্থ হবে দায়িত্বে থাকা ডেপুটি সাহেবের। সাপ্তাহিক ছুটির দিন, ঈদ-উৎসব ও পূজাপার্বণে দেখার মক্কেলের ভিড় বেশি থাকে বলে অর্থের যোগানও থাকে বেশি। ফলে এই রকম বিশেষ দিনে টোল আদায়ের ডিউটির জন্য ডেপুটিদের মধ্যে তদ্বিরী প্রতিদ্বন্দিতা চলে অহরহ। কলিং রাইটদেরও দিনে রোজগার প্রায় তিনশ টাকা। ফলে কয়েদিদের মধ্যেও ঐ জায়গায় কাম পাসের জন্য ব্যাপক চাহিদা। শুনেছি, কলিং রাইটার হতে হলে জেলার মহোদয়কে সম্মানী প্রদান করতে হয় এককালীন আট হাজার টাকা।
অফিস কল ও ডিটেনশনের আসামীদের অনুমতির দেখার বিষয়টিও ভেজালে ভরা। আয়েশ করে অফিসে বসে দেখাদেখির দর বারোশ’ টাকা। যার ভাগাভাগি এই রকম-ডেপুটি পাবেন পাঁচশ, গেইট সার্জেন তিনশ, গেইট অর্ডার তিনশ এবং চাবিওয়ালা পাবেন একশ টাকা। ডিটেনশনের অনুমতির দেখার জন্য গেইটে একটি আলাদা কাউন্টার আছে। তবে কথা বলতে গেলে এস,বি-র কর্মকর্তার দাঁড়িয়ে থাকাটা বিরক্তিকর ঠেকে। দুইশ টাকা ধরিয়ে না দিলে নির্ধারিত সময় শেষ না হতেই খামাখা বিরক্ত করা শুরু করবে। আবার ডিটেনশনের আসামী না হয়েও এস.বি ইন্সপেকটরকে একশ টাকা ঘুষ না দিলে ডিটেন্য কাউন্টারে নিরিবিলি কথা বলার ব্যবস্থা আছে। শুনেছি, এস, বি-ওয়ালাদেরও নাকি জেলখানায় পোষ্টিং-এর জন্য বড় অংকের মাল ঢালতে হয় উপরওয়ালাদের দরবারে।
দ্বিতীয় পর্ব মালামাল পরিবহন। দেখার গেইটে মাল হাতে নিয়েছেন তো মরেছেন। অনায়াসেই উঠে পড়লেন দুর্নীতির আজব পরিবহনে। যার জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয় আস্ত দশ টাকার নোট। মালামাল হাতে সামনে চলছে রাইটার নামের মাল গাড়ি। ডাইনে বায়ে অনবরত নির্গত হতে হবে নগদ নোট। নোট দিবেন না তো মালও চলবে না। জেল কোডের নিয়ম অনুযায়ী বন্দীরা শুধুমাত্র হালকা খাবার জেলের ভিতরে নিয়ে যেত পারেন। চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট-চানাচুর, বিড়ি-সিগারেট প্রভৃতি। মাল ঢাললে জেলকোডের বালাই নেই। এখানে টাকা হলে বাঘের চোখ না মিললেও মিয়াসাহেবদের চোখকে অন্ধ করে দিতে পারেন অনায়াসে। দেখার গেইটের একেবারে দুই প্রান্তে মালামাল গ্রহণের দুইটি খুপরি। খুপরিতে বসা মিয়াসাহেবকে পঞ্চাশ
