রডে এখনও বুলেটের চিহ্ন স্পষ্ট। হাসিনা সরকারের আমলে কক্ষটিকে সংরক্ষণ করে নাম দেয়া হয়েছে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’।
পাঁচ নম্বর খাতার পার্শ্বে নাজিমুদ্দিন রোডের দেয়াল ঘেঁষে মাকু শাহ্ মাজার। এই দরবেশকে নিয়ে জেলখানায় অনেক অলৌকিক কাহিনী চালু আছে। মাজারের অর্ধেকটা বাউণ্ডারি ওয়ালের ভিতরে। বাকি অর্ধেকটা ওয়ালের বাইরে। মৃত্যুর পূর্বে নাকি বলে গিয়েছিলেন, ওনাকে যেন জেলের ভিতরে কবর দেয়া হয় এবং ওনার সাজার মেয়াদ শেষ হলে যেন কবরটিকে জেলের বাইরে স্থানান্তরিত করা হয়। দরবেশের ইচ্ছানুযায়ী শাস্তির মেয়াদ শেষে বাউণ্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে ভিতরের দিকে সরিয়ে এনে কবরটিকে বাইরে রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকার লোকজন মাকু শাহ্র ভীষণ ভক্ত। কথিত আছে, প্রতিদিন মাকু শাহর মাজারে ফুল না দিলে জেলের গুনতি মিলে না।
সাত: কারাগারের দেখার গেইট
কোন পক্ষ-বিপক্ষ বিশ্লেষণের রাজনৈতিক তত্ত্ব কথা নয়, এ লেখা একজন রাজনৈতিক কর্মীর বন্দী জীবনের কিছু সত্য কথা মাত্র। চলুন দৃষ্টি দেই, শিরোনাম শীর্ষক বিষয়বস্তু বাংলাদেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎকার কক্ষের দিকে। জেলের ভাষায় যাকে বলে দেখার গেইট।
মাঝামাঝি ঘন বুননের লোহার গ্রীল দেয়া দশ বর্গফুটের আটটি কক্ষ। সাড়ে সাত হাজার বন্দীর জন্য দেখাদেখির এই টুকুই ব্যবস্থা। দূর থেকে আবছা আলো-আঁধারির এই কক্ষগুলোকে মনে হবে, বক্সঅফিস হিট করা সিনেমার চলতি টিকেট কাউন্টার। দীর্ঘদেহী ও মজবুত শারীরিক গঠন না হলে, আমার মতো খাটো মানুষের ওই যুদ্ধে অবতীর্ণ না হওয়াই ভাল। খাতা-কলমে নিয়ম আছে, জেলবন্দীদের সাক্ষাৎ-প্রার্থী দুই টাকা দিয়ে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করবে। টাকা দু’টি জমা হবে জেলের মসজিদ কল্যাণ ফান্ডে। আমার বন্দী জীবনে অবশ্য আমি দুই টাকায় সাক্ষাতের এই পদ্ধতিটির অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি।
দেখার গেইটের বাইরের প্রান্তে দালাল আছে। পঞ্চাশ টাকা অগ্রিমসহ সাক্ষাৎ প্রার্থীর নাম ধাম লিখে দিবেন। ভিতরের প্রান্তে থাকে কলিং রাইটার। জেলের অভ্যন্তরে কাউন্টার এর মূল দরজার পার্শ্বেই দেয়াল ঘেঁষে চেয়ার টেবিল নিয়ে বসেন একজন ডেপুটি জেলার। টেবিলের উপর থাকে টাকা সংগ্রহের ক্যাশবাক্স। জেলখানায় টাকা অবৈধ। কিন্তু ডেপুটি জেলাররা নিজেরাই যেভাবে আড়তদারদের মতো ক্যাশবাক্স নিয়ে উন্মুক্তভাবে ঘুষ গ্রহণের এই কর্মটি নিয়মিত করে যাচ্ছেন এতে করে জেলখানায় তো নিয়মনীতি বহাল থাকবার কথা নয়। যাই হোক, কলিং রাইটার টোল আদায়ের টেবিলে ডেপুটি মহাশয়কে পঁয়ত্রিশ টাকা দিয়ে দুই টাকার একটি অনুমতিপত্র ক্রয় করবে। ভাগাভাগি হলো
