জেলখানার দিনগুলি

« <
/ 81
> »

দিবে। কোন কিছু করার না থাকলে ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর জখম করতে শুরু করবে। শাস্তিও হয় অমানুষিক। তাতে ওদের কোন শোক আপসোস নেই। নিউ জেল গেইটে কুদ্দুস নামে এক বন্দীকে দেখলাম সারা শরীরে জালের মতো কাটাছেঁড়ার দাগ। জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন করে এমন হলো। একগাল হেসে জবাব দিল, সুন্দরবনের বাঘের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। মানসিক বৈকল্য ছাড়া আর কোন কারণ থাকতে পারে বলে মনে হলো না। ভাবি, বিধাতা এই দুনিয়ায় কত বিচিত্র মন ও মানুষেরই না জন্ম দিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের অত্যাচার নির্যাতনের আদিম ও আধুনিক সকল কায়দা-কানুনকে জয় করে নিজের উচ্ছৃংখলতাকে বজায় রাখতে পেরেছে এমন একজন কয়েদির নাম জজমিয়া। একুশ বছরের যুবক হিরোইন আসক্ত জজমিয়া থাকে চৌদ্দ সেলে। কুখ্যাতিতে নম্বর ওয়ান জজমিয়াকে জেলখানায় সকলেই একনামে চিনে। চুরি ও মাইর এই দুটি বিদ্যাকে আত্মস্থ করে ক’দিনেই পাক্কা জেলবাজে পরিণত হয়েছে। দেখলেই মনে হয় আস্ত একটা মিচকে শয়তান। জেলাখানায় এ ধারকা মাল ওধার করাতে জজমিয়ার জুড়ি নেই। জজমিয়া কোন এলাকায় হাঁটাচলা করছে অথচ ওই এলাকার দু’চারটি জিনিসপত্র খোয়া যায়নি এমন ঘটনা বিরল। বড় নেতাদের রুমের সামনে চলায়-বলায় হাজতি কয়েদিরা আদব-কায়দা, তমিজ বজায় রাখতে চেষ্টা করে।

দশ সেলে জজমিয়ার ফালতু’র কাজের প্রথম দিন অতিবাহিত না হতেই সোহেল ভাইয়ের পাঁচশ টাকা ও পিন্টু ভাইয়ের আংটি খোয়া গেল। আংটিটি জজমিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার হলেও টাকা পাঁচশর আর সন্ধান মিলেনি। নতুন জামাকাপড়, পাঞ্জাবী, লুঙ্গী, জুতা স্যান্ডেল ও বাড়তি কম্বলের প্রয়োজন হলে জজমিয়াকে আগাম অর্ডার দিয়ে রাখলেই হলো-পরদিন মালামাল সহ জজমিয়া হাজির। একদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি জজ লকআপের সামনে দাঁড়িয়ে। স্যার, কাইর‍্যা (বালতি) কিনবেন? অবাক কাণ্ড! ম্যাট পাহারাদের নানা কাজে ব্যবহৃত এই কাইর‍্যা জেলখানায় বড়ই প্রয়োজনীয় জিনিস। পঞ্চাশ টাকায় কাইর‍্যা বিক্রির পর দু’চার দিন জজ মিয়াকে আর দেখা যায়নি। মোটকথা, পর্যাপ্ত নেশার উপযুক্ত টাকা যতক্ষণ ওর হাতে আছে ততক্ষণ জজমিয়া শতভাগ খাঁটি মানুষ। জজমিয়াকে নিয়ে কারা প্রশাসনও বড় দুর্বিপাকে থাকে। এমন সব অদ্ভুত কর্মকাণ্ড করে বসে যে, শেষে জেলবাবুদের চাকুরী নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। জেলের ভাষায়, অকারণে ক্যারাব্যারা লাগানোই ওর খেয়াল। ওর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গেলে হুদাহুদি আরেকটা ফ্যাসাদ লাগিয়ে দিবে। সেদিন ছিল ডি, আই,জি, ফাইল। ডি,

« <
/ 81
> »