নিরূপায় মানুষের ঢল বড়ই মর্মন্তুদ। সুইপারদের আশ্রয়স্থল ঘন্টিঘর এর কাছাকাছি একটি সুরঙ্গ পথের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। বলা হয়, এই সুরঙ্গ পথের অপর প্রান্তে লালবাগ কেল্লা। সম্ভবত মোঘল সম্রাটরা এই খাতাগুলোকে গোপন গোলাবারুদের গুদাম কিংবা ঘোড়াশালা হিসাবে ব্যবহার করতো। শোনা যায়, ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে এই সুরঙ্গ পথের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
খাতার প্রত্যেকটি ফ্লোরকে বলে একেকটি ওয়ার্ড। প্রতি ওয়ার্ডে লোকসংখ্যা দুশ থেকে তিনশ কিংবা তারও উপরে। মাঝখানে গোটা দুই ল্যাট্রিন। ল্যাট্রিনের দেয়াল বড় জোর দুই হাত উঁচু। দরজার বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে চটের ঢাকনা। পানি সাপ্লাই কোন কালে নিয়মিত ছিল না, আজও নেই এবং ভবিষ্যতেও যে থাকবেনা সেটা নিশ্চিত। অনবরত প্রশ্রাবের ছিটায় চটের ঢাকনার নিচের অংশ খসে পড়েছে। নিতান্ত জরুরী বলেই লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে বন্দীরা ওই পায়খানা ব্যবহার করছে এবং করতে হচ্ছে। তাছাড়া বহু কষ্টে যদিও বা বাথরুমের সিরিয়াল মিলে, একমিনিট যেতে না যেতেই চিৎকার “ভাই, বাইর হন, আর পারতাছি না।” গলা খ্যাঁকরানি অব্যাহত না রাখলে কখন যে, হ্যাঁচকা টানে ঢাকনা খুলে আরেকজন ঢুকে পড়বে টেরই পাবেন না। খাতায় গোসলের দৃশ্যটি বড়ই নির্মম। সকালবেলা তালা খুলতেই হাজার মানুষের হৈ চৈ শব্দ। কার আগে কে বের হবে। সকলেরই টারগেট হাউজ পাড়ে একটু জায়গা করে নেয়া। পানির জন্য ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কি দেখে মনে হবে এ যেন নতুন কোন কারবালার প্রান্তর। লাঙ্গল বন্দের গঙ্গাস্নানের দৃশ্য যারা দেখেছেন কিংবা আমিন বাজার ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে কোরবানীর মৌসুমে গাবতলীর গরুর হাটের এক হাঁটু কাদায় মানুষ ও গরুর গাদাগাদি যারা লক্ষ্য করেছেন, তারা কিছুটা হলেও গোসলের এই বীভৎস রূপটি অনুমান করতে পারবেন। একজনের পানিতে দু’জনের গোসল হয়ে গেল। শারীরিকভাবে ক্ষীণ ও অর্থনৈতিকভাবে দীন যারা তারা অন্যের গোসলের সময় পায়ের কাছে বসে থাকে। অপরের গা গড়িয়ে পড়া জল দিয়ে ওদের গোসল সারতে হয়। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস। অনেকে দিনের পর দিন গোসলের সুযোগ পায় না। কাপড় কাচবার সুযোগও সীমিত। দীর্ঘদিন ময়লা কাপড় পরে থাকতে হয় ওদের। অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশে রোগবালাই এসে বাসা বেঁধেছে। খোস-পাঁচড়াসহ নানান অসুখ-বিসুখের মহোৎসব চলছে যেন। খাতায় দর্শন দিয়েছেন অথচ চর্মরোগ হয়নি এমন ঘটনা বিরল। চিকিৎসার ব্যবস্থাও অপ্রতুল। সপ্তাহে একদিন কারা হাসাপাতালে যাবার সুযোগ
