তার হুকুম জারি করছে। পড়ুয়া বালকদের জন্য স্কুল ওয়ার্ড, ঠিকই আছে। কিন্তু কিশোরদের ওয়ার্ডটির নাম মেন্টাল ওয়ার্ড কেন হলো তা বুঝে উঠতে পারলাম না।
পাঁচানী মামলা। শব্দ দু’টি আইনের বইয়ে আছে কিনা জানি না। তবে থানা-পুলিশ, আদালত চত্বর এবং জেল-হাজতে বহুল পরিচিত। জেলের সুইপাররা পর্যন্ত পাঁচানীদের সাথে কথা বলার সময় নিজেদেরকে মিঃ জেলার ভাবতে শুরু করেন। পাঁচানীদের জন্য বিচার ব্যবস্থাও অদ্ভুত। আদালত মুলতবি হলে কোর্ট হাজতের বারান্দায় এদের দরবার বসে। এদের দণ্ড হয় আদম-সুরৎ বিবেচনায়, অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে নয়। সাজার প্রকৃতি, নগদ জরিমানা-দু’শ থেকে তিনশ টাকা। অনাদায়ে দু’চার দিনের কারাবাস। তবে দণ্ডাদেশের হিসাব ধরা হয় থানা হাজত থেকে। পাঁচানীদের জন্য বিচারকের সশ্রমাদেশ না থাকলেও জেলাশ্রমে এদের দণ্ডাশ্রমের মেজবানীটা বড়ই মর্মন্তুদ। “সকলের চেয়ে কম পরে কম খেয়ে তারা সকলের পরিচর্যা করে। সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম সকলের চেয়ে বেশি অসম্মান। কথায় কথায় তারা উপোস করে, উপর-ওয়ালাদের লাথি-ঝাঁটা খেয়ে মরে”। যেতে আসতে চলতে ফিরতে খামাখা লাথি-গুঁতার এই প্রয়োজনীয়তা আমার বোধগম্য হলো না। খুব সম্ভবত কর্মকর্তারা জেলকোডে কি আছে তা বুঝতে চান না বা কর্মচারীদেরকে বোঝাতে চান না। না-হক কাজের এই বেসাতি অনেককাল চলবে বলেই মনে হলো। মনের দুঃখে এক পাঁচানীকে বলতে শুনেছি, “পাঁচানী মামলায় হাজতবাসের চাইতে যাবজ্জীবন কারাবাসও ভাল, এতো কষ্ট জীবন নষ্ট।” পুলিশকে উপযুক্ত ঘুষ দিয়ে অনেককেই মামলা পাঁচানীতে রূপান্তরিত করতে দেখেছি। রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বলি, পয়সা দিয়ে এহেন অসম্মানের পথ চলার চাইতে বীরোচিত জেলজীবনও ভাল। পাঁচানী মামলাটা আসলে কি সেই কৌতূহলটা আমার রয়েই গেল। পরে দশ নম্বর সেলে আমার পাশের কক্ষের বউ মার্ডার কেইসের আসামী এডভোকেট সেলিম নেওয়াজ চৌধুরীর কাছ থেকে জেনেছি পাঁচানী হলো DMP ACT-1, অনেকটা সন্দেহভাজন আইন ৫৪ ধারার মতো। হুদাহুদি কাউকে দু’চারদিন জেল-হাজতে রাখতে এ আইনের কোন জুড়ি নেই। ক্ষমতা এবং যৌবনী শক্তির জোরে যে সকল কর্মকর্তা ও কয়েদিরা জেলখানাটিকে একটি নির্যাতনের আখড়ায় পরিণত করেছেন, বয়সের ভারে এক সময় তারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করবেন, “এই বদ্ধভূমিও স্বদেশ ছিল”।
আমরা বন্দীর সংখ্যা একশত বিয়াল্লিশ জন। এর মধ্যে শ’খানেকের বয়স বিশ বছরের নিচে। বিশজনের বয়স বারো বছরেরও কম। আমার একটা জিনিস বোধগম্য হলো না-পুলিশের মধ্যে হঠাৎ এই ছেলে ধরার প্রকোপ কেন
