থাকে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী ভ্রাতৃদ্বয়, মাওলানা হাসরাত মোহানির মতো মুসলিম নেতারাও কংগ্রেসে যোগদান করেন। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরে কংগ্রেসের সাথেই কাজ শুরু করেন। মতিলাল নেহেরু, সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহেরু, সুভাষ চন্দ্র বসু, রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রমুখের নেতৃত্বে কংগ্রেস কার্যত হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনে পরিণত হয়।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ একজন আধুনিক উদারনৈতিক নেতা হিসেবে কংগ্রেসে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কংগ্রেসের লাখনৌ অধিবেশনে তার বিখ্যাত ১৪ দফা প্রস্তাবের জন্য তাকে হিন্দু-মুসলিম মিলনের অগ্রদূত উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নীতির কারণে জিন্নাহ কংগ্রেস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
কংগ্রেসের জন্মের ৩০ বছর পর ঢাকার নবাব মুহসিন-উল-মুলক, ভিখারুল মুলক প্রমুখের নেতৃত্বে এক মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে। এই সম্মেলনে ভারতীয় মুসলমানদের একটি সমিতি বা সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় মুসলিম লীগ নামক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। উপমহাদেশের পরিস্থিতিই এমন ছিল যে, মুসলমানরা যেন তাদের নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্মের জন্য অপেক্ষা করছিল। ফলে মুসলিম লীগের সংগঠন বেশ দ্রুত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভারতবর্ষের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ে। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও এ কে ফজলুল হকের মতো নেতারা-যারা ছিলেন সারা ভারতবর্ষব্যাপী পরিচিত-কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগদান করলে ক্রমান্বয়ে মুসলিম লীগ ভারতের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনে পরিণত হয়। তখন থেকেই ভারতবর্ষের রাজনীতিতে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়।
বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী পরিস্থিতি
ভারতের ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বাংলাকে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা এই দুই ভাগে বিভক্ত করে। ১৯০৫ সালে পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকা ও পশ্চিম বাংলার রাজধানী করা হয় কলকাতাকে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে পূর্ব বাংলার জনগণ খুশি হয়। কারণ, পূর্ব বাংলাকে হিনটারল্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করে কলকাতাকেন্দ্রিক বা পশ্চিম বাংলাকেন্দ্রিক উন্নয়ন করা হতো। ঢাকা পূর্ব বাংলার রাজধানী হওয়ায় পূর্ব বাংলার জনগণ আশান্বিত হয় যে, এবার ঢাকার উন্নয়ন হবে। ঢাকা ও কলকাতার উন্নয়ন-বৈষম্য প্রত্যক্ষ করে প্রখ্যাত রাজনীতিক ও সাহিত্যিক মরহুম আবুল মনসুর আহমদ বলতেন- “আমাদের পূর্ব বাংলা হলো ‘খামার বাংলা’, আর পশ্চিম বাংলা হলো ‘টাওয়ার বাংলা’।” আসলে পূর্ব বাংলাকে শোষণ করেই গড়ে তোলা হয় কলকাতা নগরী এবং দারুণভাবে বঞ্চিত থেকে যায় পূর্ব বাংলা। পূর্ব
