আল্লাহর দয়া ও পাপ-পুণ্যের বিচার
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন, “চারটি বিষয় এমন যে, এরপর কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই ধ্বংস হয় (অর্থাৎ আল্লাহর দয়া এত বিশাল যে এরপরও কেউ পথভ্রষ্ট হলে সে নিতান্তই দুর্ভাগা)। সে বিষয়গুলো হলো— যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নেক কাজ করে, তখন তার জন্য দশগুণ সওয়াব লেখা হয়। যদি সে নেক কাজের সঙ্কল্প করে কিন্তু তা করতে না পারে, তবে একটি নেকি লেখা হয়। আর যখন সে কোনো মন্দ কাজ করে ফেলে, তখন কেবল একটি গুনাহ লেখা হয়। কিন্তু যদি সে মন্দ কাজের সংকল্প করার পরও তা না করে, তবে তার ওপর কোনো গুনাহই লেখা হয় না।”
১১৬. হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য নবীজির দোয়া
মুহাম্মদ ইবনে আলী (রাহ.) থেকে বর্ণিত: নবী করিম ﷺ হাসান ও হুসাইনকে (রা.) আল্লাহর আশ্রয়ে দেওয়ার জন্য এই বলে দোয়া করতেন—
«أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَةِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ»
বঙ্গানুবাদ: “আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয়ে দিচ্ছি—সব ধরনের শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে এবং সব ধরনের অনিষ্টকারী কুদৃষ্টি থেকে।”
১১৭. কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে মুক্তির আমল
সুহাইম ইবনে নাওফাল (রাহ.) থেকে বর্ণিত: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় এক দাসী তার মনিবের কাছে দৌড়ে এসে বলল, “আপনি বসে আছেন কেন? জলদি কোনো ঝাড়ফুঁককারী বা ওঝা খুঁজুন! অমুক ব্যক্তি আপনার ঘোড়ার ওপর কুদৃষ্টি দিয়েছে, ফলে ঘোড়াটি লাটিমের মতো বনবন করে ঘুরছে (যন্ত্রণায় ছটফট করছে)।”
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, “ঝাড়ফুঁককারীর সন্ধানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ঘোড়াটির কাছে গিয়ে তার ডান নাকে চারবার এবং বাম নাকে তিনবার ফুঁ দাও এবং বলো—
«بِسْمِ اللَّهِ، لَا بَأْسَ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ، أَنْتَ الشَّافِي، لَا يَكْشِفُ الضُّرَّ إِلَّا أَنْتَ»
বঙ্গানুবাদ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, কোনো ভয় নেই। হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন; আপনিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী, আপনি ছাড়া কষ্ট লাঘব করার আর কেউ নেই।’”
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মজলিস থেকে ওঠার আগেই সেই ব্যক্তি ফিরে এসে জানাল, “আপনি যা শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমি ঠিক তা-ই করেছি। এরপর আমি সেখান
