হেদায়েতের এক বিশাল দুয়ার খুলে যায়। ফলে তিনি ভালোবাসা, সেবা আর উজাড় করে দেওয়া মানসিকতা নিয়ে পিতামাতার প্রতি আরও বেশি অনুগত হয়ে পড়েন। তিনি পিতামাতার অবাধ্যতার পঙ্কিলতা থেকে নিরাপদ থাকেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চেয়েছেন ঠিক সেভাবেই—নিজে এবং নিজের সম্পদকে পিতার জন্য উৎসর্গ করে দেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই হাদীসের প্রেক্ষাপটে জনৈক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করেছিল যে, তার পিতা তার সম্পদ নিঃশেষ করে দিতে চাইছেন। তখন নবী (সা.) তাকে বলেছিলেন যে, সন্তান ও তার উপার্জিত সম্পদ মূলত পিতারই। ইমাম খাত্তাবী (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন—যদি পিতার নিজের কোনো সম্পদ না থাকে এবং তাঁর ভরণপোষণের জন্য সন্তানের মূল সম্পদ খরচ করার প্রয়োজন হয়, তবে সন্তানকে সেই ভার বহন করতে হবে। এমনকি সন্তানের হাতে নগদ অর্থ না থাকলেও তাকে কাজ করে পিতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁদের বন্ধু ও প্রিয়জনদের প্রতি সদাচরণ:
এই চিরন্তন দ্বীনের নির্দেশনা কেবল পিতামাতার জীবদ্দশায় তাঁদের সেবা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁদের ইন্তেকালের পর তাঁদের প্রিয়জন ও বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছে। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন—
“সবচেয়ে বড় নেক কাজ হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক (সদ্ব্যবহার) বজায় রাখা।” অন্য এক বর্ণনায় এসেছে— “নিশ্চয়ই সর্বোত্তম নেক কাজ হলো পিতার মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।” [সহীহ মুসলিম]
একজন সচেতন মুসলিম তাই কেবল পিতামাতার প্রতিই দয়ালু নন, বরং তাঁদের অবর্তমানে তাঁদের স্মৃতি বিজড়িত মানুষদের সম্মান করেও তিনি তাঁর পিতামাতার প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) একবার তাঁর পিতা উমর (রা.)-এর এক বন্ধুর দেখা পেলেন এবং তাঁর প্রতি সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শনে কোনো কার্পণ্য করলেন
