আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমালঙ্ঘনমূলক।” [সূরাহ আল-কাহফ: ২৮]
বেশি বেশি মাসনূন দু‘আ ও যিকির পাঠ করা: নিজের আত্মাকে শক্তিশালী করতে এবং হৃদয়কে আল্লাহর সাথে জুড়ে দিতে মুসলিমের অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত দু‘আ ও যিকিরগুলো পাঠ করা। প্রতিটি কাজের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট দু‘আ ছিল। ঘর থেকে বের হওয়ার সময়, ঘরে প্রবেশের সময়, মুসাফিরকে বিদায় জানাতে, মুসাফিরকে বরণ করতে, নতুন পোশাক পরিধান করতে, বিছানায় ঘুমানোর সময় এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়—রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর দরবারে দু‘আ করতেন যেন আল্লাহ তাঁকে সঠিক পথে রাখেন, স্খলন থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ লিখে দেন। হাদীসের বিশুদ্ধ কিতাবগুলোতে এই দু‘আগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁর সাহাবীগণকেও এই যিকির ও দু‘আগুলো শিখিয়ে দিতেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা পাঠ করতে উৎসাহিত করতেন।
একজন মুত্তাকী ও সচেতন মুসলিম রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর মহান সাহাবীগণের অনুসরণে এই চমৎকার মাসনূন দু‘আগুলো শিখতে সচেষ্ট হন। তিনি যথাসম্ভব প্রতিটি উপলক্ষে এগুলো পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তাঁর অন্তর সর্বদা আল্লাহর সাথে যুক্ত থাকে, আত্মা পবিত্র হয়, রূহ উচ্চ শিখরে আরোহণ করে এবং তাঁর অনুভূতি সূক্ষ্ম ও প্রখর হয়।
এই আত্মিক সাধনার মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম প্রজন্মের সাহাবীগণের আত্মাকে সুসংগঠিত করেছিলেন এবং তাঁদের নফসকে এমনভাবে শাণিত করেছিলেন যে, তাঁদের মাঝে কোনো প্রকার কালিমা বা কলুষতা অবশিষ্ট ছিল না। এভাবেই তিনি ইতিহাসের সেই বিরল ও সুসভ্য প্রজন্ম তৈরি করে ইসলামের এক মহাবিস্ময় উপহার দিয়েছিলেন, যাঁরা মাত্র কয়েক বছরেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।
আজকের এই কঠিন সময়ে একজন সত্যনিষ্ঠ মুসলিমের দায়িত্ব হলো—নিজের আত্মার ডানাকে সেই আলোকিত ও উচ্চতর দিগন্তে

« <
/ 87
> »