তাঁর আত্মার শক্তি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ইবাদতের সাহায্য নেন। যেমন—ধীরস্থিরভাবে চিন্তা ও বিনয়সহকারে কুরআন তিলাওয়াত, একাগ্রচিত্তে যিকির, সমস্ত শর্ত ও খুশু-খুযূসহ যথাযথভাবে সালাত আদায় এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক সাধনা। এই ইবাদতগুলোকে তিনি অভ্যাসে পরিণত করেন, যা তাঁর সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। এর ফলে তাঁর নফস কোমল হয়, অনুভূতি সূক্ষ্ম হয় এবং ইন্দ্রিয়গুলো জাগ্রত হয়। তখন তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে নিজেকে আল্লাহর নজরদারিতে অনুভব করেন এবং মানুষের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাকওয়া ও ইনসাফ বজায় রাখেন।
সৎসঙ্গ ও ঈমানী মজলিস আঁকড়ে ধরা: এই আধ্যাত্মিক উচ্চ শিখরে আরোহণের জন্য মুসলিম এমন সৎসঙ্গীর সাহায্য নেন যারা পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়। তিনি এমন ঈমানী মজলিসে বেশি বেশি উপস্থিত হন যেখানে আল্লাহর যিকির হয় এবং ইসলাম ও ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ গঠনে এর মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত মুমিনরা মহাবিশ্ব ও মানুষের সৃষ্টির নিপুণ শৈলী নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করেন। এমন মজলিসে আত্মিক জ্যোতি বাড়ে, নফস পরিচ্ছন্ন হয়, হৃদয় নির্মল হয় এবং পুরো সত্তায় ঈমানের মাধুর্য মিশে যায়।
এ কারণেই আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সাহাবীর সাথে দেখা হলে বলতেন— “এসো, আমরা কিছুক্ষণ আমাদের রবের প্রতি ঈমান আনি (অর্থাৎ ঈমানী আলোচনা করি)।” এ সংবাদ নবী (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলতেন—
“আল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহর ওপর রহম করুন। তিনি এমন মজলিস পছন্দ করেন যা দেখে ফেরেশতারাও গর্ব করে।” [মুসনাদু আহমাদ; হাসান সূত্রে বর্ণিত]
খলীফাতুল মুসলিমীন উমর আল-ফারূক (রা.) খিলাফতের গুরুদায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মাঝেও কোনো কোনো সাহাবীর হাত ধরে বলতেন— “চলো, আমরা আমাদের ঈমান বৃদ্ধি করি; এরপর তাঁরা আল্লাহর যিকিরে মগ্ন হতেন।” [হায়াতুস সাহাবাহ]
হযরত উমর (রা.)-এর মতো অত বড় মুত্তাকী ও নেককার
