আদম (আ.)-এর প্রথম হাঁচি এবং “আলহামদুলিল্লাহ” পাঠ
আদম (আ.)-এর নাসিকায় রূহ পৌঁছানোর পর তিনি যখন হাঁচি দিলেন, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দেওয়া হলো এক পবিত্র বাক্যের। তিনি বলে উঠলেন:
“আলহামদুলিল্লাহ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।
উত্তরে স্বয়ং রাব্বুল আলামীন বললেন:
“ইয়ারহামুকাল্লাহ” (হে আদম, তোমার প্রতিপালক তোমার ওপর রহমত বা দয়া বর্ষণ করুন)।
এটি ছিল মানবজাতির প্রতি আল্লাহর প্রথম সরাসরি সম্ভাষণ। দয়া ও রহমতের মাধ্যমেই এই নতুন সৃষ্টির পথচলা শুরু হলো। রূহ যখন তাঁর পাকস্থলীতে পৌঁছাল, তখন আদম (আ.) প্রথম ক্ষুধার অনুভূতি টের পেলেন। তিনি জান্নাতের সুস্বাদু ফলের দিকে হাত বাড়াতে চাইলেন। রূহ তখনো তাঁর পায়ে পৌঁছায়নি, ফলে তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না। মানুষের এই তাড়াহুড়ো করার স্বভাব নিয়ে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে:
“মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই ত্বরাপ্রবণ।” [সূরাহ আল-আম্বিয়া: ৩৭]
ধীরে ধীরে রূহ যখন পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত পৌঁছে গেল, তখন আদম (আ.) পূর্ণাঙ্গ এক মানবে পরিণত হলেন। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর উচ্চতা ছিল আকাশছোঁয়া—ষাট হাত দীর্ঘ এক সুপুরুষ, যাঁর মুখমণ্ডলের জ্যোতি জান্নাতের নূরকেও হার মানাচ্ছিল। ফেরেশতারা বিস্ময়ভরে তাকিয়ে দেখলেন, যে মাটির কাঠামোকে তাঁরা তুচ্ছ ভেবেছিলেন, তা আজ কী এক জ্যোতির্ময় ও মহিমান্বিত রূপ ধারণ করেছে!
মানুষের সৃষ্টির এই পূর্ণতা কেবল একটি দেহের সমাপ্তি ছিল না, বরং এটি ছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা। যে ইতিহাসে থাকবে প্রেম, বিরহ, পরীক্ষা আর আল্লাহর সীমাহীন করুণা।
