রূহ ফুঁকে দেওয়া—মাটির দেহে প্রথম প্রাণের স্পন্দন
জান্নাতের সেই নিস্তব্ধ প্রান্তরে পড়ে থাকা দীর্ঘদেহী মাটির অবয়বটি ঘিরে তখন এক অপার্থিব উত্তেজনা। ফেরেশতারা সারিবেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন, ইবলীসও দূরে দাঁড়িয়ে গভীর সংশয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন মহান আল্লাহ তাঁর বিশেষ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করবেন।
আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের আগেভাগেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন:
“অতঃপর যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।” [সূরাহ আল-হিজর: ২৯]
অবশেষে সেই অলৌকিক মুহূর্তটি এল। আল্লাহর নির্দেশে আদম (আ.)-এর দেহে ‘রূহ’ বা প্রাণ প্রবেশ করতে শুরু করল। রূহ যখন প্রথম তাঁর মাথার দিক দিয়ে প্রবেশ করল, তখন সেই প্রাণহীন মাটির রঙ পাল্টে যেতে লাগল। মাটির ধূসরতা ছাপিয়ে ফুটে উঠল জীবন্ত মানুষের লাবণ্য।
রূহ যখন তাঁর দুই চোখে পৌঁছাল, আদম (আ.)-এর চোখের পাতা প্রথম কেঁপে উঠল। তিনি চোখ মেলে তাকালে তাঁর দৃষ্টির সামনে উন্মোচিত হলো জান্নাতের অপার সৌন্দর্য—নক্ষত্রের মতো ঝলমলে ফলমূল আর নূরের নহর। রূহ যখন তাঁর নাসিকায় পৌঁছাল, তিনি প্রথম বাতাসের ঘ্রাণ অনুভব করলেন। অমনি তাঁর ভেতর থেকে এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হলো এবং তিনি প্রথম ‘হাঁচি’ দিলেন।
সেই হাঁচিটি ছিল মহাবিশ্বের প্রথম মানবিক শব্দ। আর এর পরপরই তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হলো সেই চিরন্তন প্রশংসা বাক্য।
