ইবলীস ও তার সন্তানদের সাথে সত্য-মিথ্যার চিরন্তন লড়াই
আদম (আ.) যখন তাঁর সন্তানদের সত্যের পথে পরিচালিত করছিলেন, তখন ইবলীসও বসে ছিল না। সে তার বংশধরদের (শয়তানদের) নির্দেশ দিল মানুষের প্রতিটি ঘরে ফিতনা ও বিভেদ ছড়িয়ে দিতে। ইবলীস জানত যে সে সরাসরি আদম (আ.)-কে আর টলাতে পারবে না, তাই সে টার্গেট করল আদমের পরবর্তী প্রজন্মকে।
লড়াইটি ছিল মূলত দুটি আদর্শের:
আদমের আদর্শ: যা ছিল আল্লাহর একত্ববাদ, লজ্জা, পর্দা ও পরিশ্রমের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইবলীসের কুমন্ত্রণা: যা ক্বাবীলের বংশধরদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছিল। তারা বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে উম্মাদনা সৃষ্টি করল, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা শুরু করল এবং মূর্তিপূজার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল।
আদম (আ.) ব্যথিত হৃদয়ে লক্ষ্য করলেন, তাঁর কিছু সন্তান হাবীলের পথে চললেও একটি বড় অংশ ক্রমশ ক্বাবীলের সেই অবাধ্যতার পথে পা বাড়াচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত পুণ্যবান গোষ্ঠী এবং সমতলে বসবাসরত ভোগবিলাসী গোষ্ঠীর মধ্যে এই যে সংঘাত, এটিই ছিল পৃথিবীতে ‘হক’ (সত্য) ও ‘বাতিল’ (মিথ্যা)-এর প্রথম লড়াই।
আদম (আ.) তাঁর সন্তানদের বার বার অসিয়ত করতেন যে, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই সমতলের সেই পাপাচারী জনপদে না যায়। এই আধ্যাত্মিক যুদ্ধই মানব ইতিহাসের পরবর্তী কয়েক হাজার বছরের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
