আদম আলাইহিস সালাম: সৃষ্টির আদি কথা

« <
/ 40
> »

বংশধরদের মধ্যে কৃষ্টি-কালচার ও ভাষার বৈচিত্র্য
আদম (আ.)-এর জীবদ্দশাতেই তাঁর বংশধররা সংখ্যায় বিপুল হয়ে উঠেছিল। মক্কা ও তার আশেপাশের অঞ্চল থেকে তারা ক্রমশ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তাদের জীবনযাত্রায় যোগ হতে থাকে নতুন নতুন বৈচিত্র্য। কেউ পাহাড়ের গুহায় বসতি গড়ল, কেউ নদীর তীরে উর্বর জমিতে চাষাবাদ শুরু করল, আবার কেউবা তৃণভূমিতে পশুপালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

আদমের (আ.) সন্তানদের মধ্যে এই যে বৈচিত্র্য, তা কেবল পেশায় নয়, বরং তাদের ভাষায় ও সংস্কৃতিতেও স্পষ্ট হতে লাগল। মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে সমস্ত নাম এবং ভাবপ্রকাশের মূল জ্ঞান দান করেছিলেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সেই মূল ভাষা থেকে শাখা-প্রশাখার মতো বিভিন্ন ভাষার উদ্ভব ঘটল, যাতে তারা এক জনপদ থেকে অন্য জনপদকে আলাদা করতে পারে।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এই বৈচিত্র্য আল্লাহর এক মহিমান্বিত নিদর্শন:

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমান ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।” [সূরাহ আর-রূম: ২২]

আদম (আ.) তাঁর সন্তানদের শেখাতেন যে, গায়ের রঙ বা ভাষার ভিন্নতা যেন তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে। তারা সবাই একই পিতা-মাতার সন্তান—এই ভ্রাতৃত্ববোধই ছিল তাঁর শিক্ষার মূলমন্ত্র। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কৃষ্টি-কালচারের এই ভিন্নতা ইবলীসকে এক নতুন সুযোগ করে দিল।

« <
/ 40
> »