চাষাবাদ, বয়ন শিল্প ও জীবন পরিচালনার প্রাথমিক শিক্ষা
বেঁচে থাকার জন্য কেবল খাদ্যই যথেষ্ট ছিল না, প্রয়োজন ছিল দেহের আব্রু রক্ষার। জান্নাতী পোশাক খসে পড়ার পর তাঁরা গাছের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢেকেছিলেন, কিন্তু পৃথিবীর বাতাসে সেই পাতা শুকিয়ে ঝরে যেত।
এবার জিবরাঈল (আ.) আদম (আ.)-কে পশু পালন ও পশম সংগ্রহের পদ্ধতি শেখালেন। হাওয়া (আ.)-কে শেখানো হলো সুতা কাটা এবং বয়ন শিল্প। আদম (আ.) ভেড়ার লোম সংগ্রহ করলেন এবং হাওয়া (আ.) তা দিয়ে কাপড় তৈরি করলেন। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম পোশাক তৈরির কারিগরি। আদম (আ.) তৈরি করলেন নিজের জন্য জুব্বা আর হাওয়া (আ.)-এর জন্য ওড়না ও কামিজ।
এভাবে চাষাবাদ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় মহান আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষা দিলেন। লোহা গলানো, কাঠ দিয়ে আসবাব তৈরি করা এবং পাথর কেটে বসবাসের উপযোগী স্থান গড়ার প্রাথমিক জ্ঞানও তাঁদের দান করা হলো। আদম (আ.) কেবল একজন নবী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রথম স্থপতি, প্রথম কৃষক এবং প্রথম কারিগর। তাঁর মাধ্যমেই পৃথিবীর বুকে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বীজ রোপিত হলো।
