পৃথিবীর প্রতিকূল পরিবেশ ও জীবনধারণের সংগ্রাম
আরাফাতের ময়দানে সেই ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের পর আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন। জান্নাতে ক্ষুধা বা পিপাসা বলতে কিছু ছিল না; সেখানে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য শ্রম দিতে হতো না। কিন্তু পৃথিবীতে পা রাখামাত্রই তাঁদের শরীর প্রথম অভাব ও কষ্টের স্পর্শ পেল। উত্তপ্ত সূর্য তাঁদের ত্বককে তামাটে করে দিচ্ছিল, আর পেটের ভেতরে ক্ষুধার এক তীব্র জ্বালা অনুভূত হচ্ছিল।
আদম (আ.) আল্লাহর কাছে আরজ করলেন, “হে প্রতিপালক! জান্নাতে তো আমি অভাবমুক্ত ছিলাম, এখন এই ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় কী?”
মহান আল্লাহ তখন জিবরাঈল (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন আদম (আ.)-কে জীবনধারণের কৌশল শেখানোর জন্য। জিবরাঈল (আ.) জান্নাত থেকে আনা গমের দানাগুলো আদম (আ.)-এর হাতে দিলেন। তিনি তাঁকে শেখালেন কীভাবে জমিন চাষ করতে হয়, কীভাবে বীজ বপন করতে হয় এবং কীভাবে সেই ফসলকে আগলে রাখতে হয়। আদম (আ.) তাঁর শক্তিশালী হাত দিয়ে পৃথিবীর শক্ত মাটি খুঁড়লেন—যা ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম শারীরিক শ্রম।
গমের শীষ যখন পরিপক্ক হলো, তখন এল পরবর্তী ধাপ। জিবরাঈল (আ.) তাঁকে শেখালেন কীভাবে শস্য মাড়াই করে আটা তৈরি করতে হয়। এরপর এলো আগুনের প্রয়োজন। পাথর ঘষে আগুন জ্বালানোর সেই আদিম অথচ অতি প্রয়োজনীয় বিদ্যাটি তিনি লাভ করলেন। আটা দিয়ে খামির তৈরি করে যখন পৃথিবীর প্রথম ‘রুটি’ তৈরি হলো, তখন আদম (আ.) বুঝতে পারলেন পৃথিবীর সুখের পেছনে কতটুকু হাড়ভাঙা খাটুনি লুকিয়ে আছে। সেই রুটিটি মুখে দেওয়ার সময় তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল; কারণ জান্নাতের সেই অবারিত নেয়ামত অর্জনে কোনো ঘাম ঝরাতে হতো না।
