পৃথিবীর প্রথম ঘর: কা‘বা শরীফ নির্মাণ ও ইবাদতের সূচনা
সংসার ও জীবনধারণের গোড়াপত্তন হওয়ার পর আদম (আ.)-এর হৃদয়ে মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানের ব্যাকুলতা তৈরি হলো। তিনি জান্নাতে ফেরেশতাদের ‘বাইতুল মা‘মূর’ (আরশের নিচে ফেরেশতাদের কাবা) তাওয়াফ করতে দেখেছিলেন। তিনি পৃথিবীতেও তেমন একটি ঘরের কামনা করলেন।
আল্লাহ তা‘আলা আদম (আ.)-এর প্রার্থনা কবুল করলেন। ফেরেশতাদের মাধ্যমে জান্নাত থেকে ‘হাজারে আসওয়াদ’ (কালো পাথর) পাঠিয়ে দেওয়া হলো। জিবরাঈল (আ.)-এর নির্দেশনায় আদম (আ.) মক্কার সেই পবিত্র ভূমিতে পৃথিবীর প্রথম ইবাদতগৃহের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন।
পবিত্র কুরআনের ভাষায়:
“নিশ্চয়ই মানবজাতির (ইবাদতের) জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো মক্কায় অবস্থিত; যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়াতস্বরূপ।” [সূরাহ আল ইমরান: ৯৬]
আদম (আ.) নিজ হাতে পাথর বহন করে এনে কাবার দেয়াল তুলেছিলেন। নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনি মহান আল্লাহর নির্দেশে সেই ঘরের চারপাশ তাওয়াফ করলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে রোনাজারি করতেন এবং নিজের বংশধরদের জন্য হেদায়াতের দু‘আ করতেন। সেই থেকে মক্কা হয়ে উঠল পৃথিবীর আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু। আদম (আ.)-এর এই ঘর নির্মাণের মাধ্যমেই পৃথিবীতে একনিষ্ঠ ইবাদত ও তাওহীদের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হলো।
২৬শ অধ্যায়: হাওয়া (আ.)-এর গর্ভধারণ ও যমজ সন্তান জন্মের ধারা
পৃথিবীর বুকে আদম ও হাওয়া (আ.)-এর সংসার তখন থিতু হতে শুরু করেছে। তাঁরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে মেহনত করছেন, কিন্তু বিস্তীর্ণ এই পৃথিবীতে তখনো তাঁরা মাত্র দুজন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবার সেই মহাপ্রতিশ্রুতি পূরণের সময় এল—যে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে পৃথিবী এক বিশাল জনপদে পরিণত হবে।
হাওয়া (আ.) প্রথমবারের মতো গর্ভধারণ করলেন। জান্নাতের সেই সহজ জীবনের পর পৃথিবীর বুকে গর্ভধারণের কষ্ট ও শারীরিক পরিবর্তন ছিল তাঁর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তবে এই কষ্টের সাথে মিশে ছিল এক অভাবনীয় আনন্দ। সময় পূর্ণ হলে হাওয়া (আ.) সন্তান প্রসব করলেন। এটি ছিল এক অলৌকিক ধারা—প্রতিবারই তাঁর গর্ভ থেকে একজন পুত্র এবং একজন কন্যা অর্থাৎ একজোড়া ‘যমজ’ সন্তান জন্মগ্রহণ করত।
প্রথমবারের যমজ সন্তানদের নাম ছিল ক্বাবীল ও তার বোন আকলিমা। এর কিছুকাল পর দ্বিতীয় জোড়া হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেন হাবীল ও তার বোন লিউযা। আদম (আ.) পরম মমতায় সন্তানদের বড় করে তুলতে লাগলেন। শস্যের শ্যামলিমা আর পশুপালের চারণভূমির মাঝে সন্তানদের কলকাকলিতে পৃথিবীর রুক্ষতা যেন দূর হয়ে গেল।
