নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ এবং লজ্জাস্থান প্রকাশিত হওয়া
জান্নাতের সেই স্তব্ধ মুহূর্ত। ইবলীসের সুনিপুণ প্রতারণা আর আল্লাহর নামে দেওয়া মিথ্যা শপথের মায়াজালে আটকা পড়লেন আদম ও হাওয়া (আ.)। কৌতূহল আর অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা তাঁদের বিচারবুদ্ধিকে ক্ষণিকের জন্য আচ্ছন্ন করে ফেলল। তাঁরা ভুলে গেলেন সেই অমোঘ সতর্কবাণী।
হাওয়া (আ.) প্রথমে সেই বৃক্ষের ফল আস্বাদন করলেন এবং তারপর আদম (আ.)-কেও উৎসাহিত করলেন। যেই মুহূর্তে সেই নিষিদ্ধ ফল তাঁদের কণ্ঠে প্রবেশ করল, অমনি যেন মহাবিশ্বের ছন্দপতন ঘটল। আল্লাহর অবাধ্যতার তাৎক্ষণিক পরিণতি হিসেবে তাঁদের শরীর থেকে জান্নাতী পোশাক খসে পড়ল।
পবিত্র কুরআনে সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্যের বর্ণনা এসেছে:
“অতঃপর যখন তারা সেই বৃক্ষের ফল আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদের ঢাকতে শুরু করল।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ২২]
এক নিমেষেই তাঁদের সেই নূরাণী আভা ম্লান হয়ে গেল। তাঁরা চরম সংকোচ ও লজ্জায় দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লেন। ডুমুর বা জান্নাতের অন্যান্য বড় বড় পাতা টেনে এনে তাঁরা নিজেদের নগ্নতা ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন। যে জান্নাত ছিল তাঁদের আনন্দের চারণভূমি, এখন সেই জান্নাতই যেন তাঁদের কাছে এক বিরাট অভিযোগের আঙুল হয়ে দাঁড়াল।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের ডেকে বললেন:
“আমি কি তোমাদের সেই বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ২২]
সেই ঐশী কণ্ঠস্বর শোনার পর আদম (আ.)-এর অনুশোচনা আকাশ ছুঁল। তিনি বুঝতে পারলেন, এক মুহূর্তের অসতর্কতায় তিনি কী হারিয়েছেন। ইবলীস তখন আড়াল থেকে তার পৈশাচিক উল্লাস করছিল, কিন্তু আদম (আ.) ইবলীসের মতো অহংকার না করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।
