তওবা ও অনুশোচনা—মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা
আদম (আ.)-এর ভেতরে এখন আর অমরত্বের লোভ নেই, নেই রাজত্বের মোহ। তাঁর পুরো অস্তিত্ব এখন কেবল এক অপরাধবোধে দগ্ধ হচ্ছে। তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁর সেই কান্না ছিল এতই দীর্ঘ ও করুণ যে, আসমানের ফেরেশতারাও ব্যথিত হয়ে পড়লেন।
তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মহান আল্লাহ পরম দয়ালু। তিনি যখন দেখলেন তাঁর বান্দা ভুল করেছে ঠিকই, কিন্তু সে অবাধ্য নয় বরং অনুতপ্ত, তখন তিনি দয়া করে আদম (আ.)-কে ক্ষমা চাওয়ার শব্দসমূহ শিক্ষা দিলেন।
আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) হাহাকার করে সেই চিরন্তন দু‘আ পাঠ করতে লাগলেন:
“রাব্বানা যালামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকূনান্না মিনাল খাসিরীন।” (অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের ওপর দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।) [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ২৩]
এটিই ছিল মানবজাতির ইতিহাসের প্রথম তওবা। ইবলীস ভুল করে অহংকার করেছিল, আর আদম (আ.) ভুল করে বিনয় দেখালেন। আল্লাহ তাঁদের তওবা কবুল করলেন, কিন্তু মহাজাগতিক বিধান অনুযায়ী তাঁদের জন্য এখন জান্নাতের অধ্যায় সমাপ্ত হওয়ার সময় এল। কারণ, মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছিল পৃথিবীর খলীফা হিসেবে, আর এই ঘটনাটি ছিল পৃথিবীতে যাওয়ার একটি অসিলা মাত্র।
