ইবলীসের কুমন্ত্রণা ও সূক্ষ্ম প্রতারণার কৌশল
ইবলীস জানত যে সে সরাসরি আদম (আ.)-কে কোনো অন্যায় করতে বাধ্য করতে পারবে না। তাই সে বেছে নিল ‘ওয়াসওয়াসা’ বা কুমন্ত্রণার পথ। সে জান্নাতের রক্ষীদের নজর এড়িয়ে কোনোভাবে সেখানে প্রবেশ করল (কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে সে সাপের ছদ্মবেশে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রবেশ করেছিল)।
সে যখন আদম ও হাওয়া (আ.)-এর সামনে হাজির হলো, সে নিজেকে তাঁদের পরম হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করল। সে শুরু করল এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক খেলা। সে বলল:
“তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে এই গাছ থেকে নিষেধ করেছেন কেবল এজন্য যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা চিরস্থায়ী হও।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ২০]
ইবলীস জানত মানুষের একটি সহজাত দুর্বলতা হলো অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা। সে আদম (আ.)-কে ফুসলাতে লাগল এই বলে যে, “আপনি কি সেই গাছের খোঁজ চান, যা খেলে আপনি কখনো বৃদ্ধ হবেন না? আপনার রাজত্ব কখনো শেষ হবে না?”
আদম (আ.) প্রথমে ভ্রুক্ষেপ করেননি। কিন্তু ইবলীস এবার এক ভয়ংকর চাল চালল। সে আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে বসল। সে বলল, “আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। আমি যা বলছি তা তোমাদের মঙ্গলের জন্যই বলছি।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ২১]
আদম (আ.) ছিলেন অত্যন্ত সরল মনের মানুষ। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে, কেউ আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করতে পারে। ইবলীসের এই মিথ্যা কসম আর অনবরত প্ররোচনা ধীরে ধীরে তাঁদের মনের ওপর এক ধরণের প্রভাব ফেলতে শুরু করল। নিষিদ্ধ বৃক্ষের সেই ফলটি এখন আর কেবল একটি ফল রইল না, বরং তা হয়ে উঠল ‘অমরত্বের চাবিকাঠি’—ইবলীসের সাজানো এই মিথ্যা জালে পা দিতে যাচ্ছিলেন ইতিহাসের প্রথম মানব-মানবী।
মানুষের চিরন্তন শত্রু ইবলীস আড়ালে দাঁড়িয়ে হাসছিল। সে জানত, একবার যদি এই সীমা লঙঘন করানো যায়, তবেই সে তার প্রতিশোধ নিতে পারবে।
