আদম আলাইহিস সালাম: সৃষ্টির আদি কথা

« <
/ 40
> »

নিঃসঙ্গতা দূরীকরণ—আদম (আ.)-এর পাজর থেকে হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি
জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত আর ফেরেশতাদের সান্নিধ্যের মাঝেও আদম (আ.)-এর হৃদয়ে এক অজানিত শূন্যতা বিরাজ করছিল। তিনি দেখতেন জান্নাতের প্রতিটি সৃষ্টি জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করছে, একে অপরের দুঃখ-সুখ ভাগ করে নিচ্ছে। কিন্তু তিনি ছিলেন একাকী। এই একাকীত্ব তাঁর জান্নাতী সুখে এক ধরণের বিষণ্ণতা যোগ করত।

একদিন আদম (আ.) জান্নাতের স্নিগ্ধ ছায়ায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। তিনি যখন ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের রাজ্যে বিভোর, তখন মহান আল্লাহ তাঁর বাম পাজরের একটি হাড় থেকে সৃষ্টি করলেন এক অপূর্ব সুন্দর মানবীকে। ঘুমের মধ্যেই আদমের শরীর থেকে সেই হাড়টি নেওয়া হলো, অথচ তিনি বিন্দুমাত্র ব্যথা অনুভব করলেন না—যাতে তাঁর জীবনসঙ্গিনীর প্রতি তাঁর হৃদয়ে কোনো বিরূপতা না জন্মে।

আদম (আ.) যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন, তিনি তাঁর মাথার পাশে বসা এক অনিন্দ্যসুন্দর সত্তাকে দেখে বিস্ময়াভিভূত হলেন। তাঁর রূপ ছিল জান্নাতের নূরের চেয়েও কোমল। আদম (আ.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে? আর কেনইবা এখানে এসেছ?”

সেই অপূর্ব নারী উত্তর দিলেন, “আমি এক নারী। আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন যাতে আপনি আমার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন।”

ফেরেশতারা আদম (আ.)-এর জ্ঞানের পরীক্ষা নিতে চাইলেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আদম, এর নাম কী?” আদম (আ.) তাঁর প্রজ্ঞার আলোকে উত্তর দিলেন, “তাঁর নাম ‘হাওয়া’।” ফেরেশতারা আবার প্রশ্ন করলেন, “কেন তাঁর নাম হাওয়া রাখা হলো?” আদম (আ.) বললেন, “কারণ তাঁকে একটি ‘হাই’ বা জীবন্ত বস্তু (আদমের পাজর) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।”

হাওয়া (আ.)-এর উপস্থিতিতে জান্নাতের আকাশ-বাতাস যেন এক নতুন আনন্দে ভরে উঠল। আদমের সেই নিঃসঙ্গতা নিমেষেই উবে গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সৃষ্টির রহস্য নিয়ে বলেছিলেন:

“তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের অসিয়ত গ্রহণ করো; কেননা নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাজরের হাড় থেকে। আর পাজরের হাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বক্র হলো উপরের অংশটি…” [সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৩৩১]

এই সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ শিখিয়ে দিলেন যে, নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী পুরুষের পাজরের অংশ—অর্থাৎ হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের স্থান থেকে আসা এক অমূল্য সম্পদ।

« <
/ 40
> »