বিবাহ বন্ধন ও দাম্পত্য জীবনের সূচনা
আদম ও হাওয়া (আ.) এখন জান্নাতের দুই রাজকীয় অতিথি। তাঁদের এই পবিত্র মিলনকে একটি আইনি ও ধর্মীয় মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। স্বয়ং আল্লাহ ছিলেন এই বিয়ের অভিভাবক এবং ফেরেশতারা ছিলেন সাক্ষী।
কোনো কোনো বর্ণনা মতে, আদম (আ.) যখন হাওয়া (আ.)-এর দিকে হাত বাড়াতে চাইলেন, তখন ফেরেশতারা বললেন, “হে আদম! আগে মোহরানা আদায় করুন।” আদম (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, “মোহরানা কী হবে?” নির্দেশ এলো, “আল্লাহর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করো।”
জান্নাতের সেই পবিত্র চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো ইতিহাসের প্রথম বিবাহ। এরপর আল্লাহ তাঁদেরকে জান্নাতের যে কোনো স্থানে বিচরণ করার অনুমতি দিলেন। শুরু হলো এক স্বপ্নিল দাম্পত্য জীবন। তাঁরা একে অপরের হাত ধরে জান্নাতের নহরগুলোর পাড়ে হাঁটতেন, মণি-মুক্তার প্রাসাদে বিশ্রাম নিতেন। তাঁদের মাঝে ছিল না কোনো ঝগড়া, ছিল না কোনো ভুল বোঝাবুঝি—ছিল শুধু জান্নাতী মুহাব্বত।
মহান আল্লাহ তাঁদের এই জীবনকে আশীর্বাদপুষ্ট করে বললেন:
“হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যা ইচ্ছা তা সাচ্ছন্দ্যে আহার করো; কিন্তু এই গাছটির কাছে যেয়ো না…” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৩৫]
এই নির্দেশের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক মহাজাগতিক পরীক্ষা। জান্নাতের সমস্ত দরজা খোলা ছিল, কেবল একটি গাছ ছিল সীমানা প্রাচীর। দাম্পত্যের এই সুখের মাঝে এবার প্রবেশ করতে যাচ্ছিল সেই নিষিদ্ধ অধ্যায়।
