জান্নাতে প্রথম বসবাস ও জান্নাতী নেয়ামতসমূহ
পরীক্ষার সেই মহিমান্বিত অধ্যায় পার হওয়ার পর মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেন। জান্নাত—যার বর্ণনা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে তার কল্পনাও আসেনি।
আদম (আ.) জান্নাতের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ গালিচায় বিচরণ করতে লাগলেন। সেখানে বৃক্ষগুলো ছিল সোনার কাণ্ডের তৈরি, আর পাতাগুলো ছিল দামী মণি-মুক্তার মতো ঝলমলে। নহরগুলো থেকে বয়ে আসছিল দুধ, মধু আর স্বচ্ছ পানীয়ের সুমিষ্ট ধারা। সেখানে কোনো ক্লান্তি ছিল না, কোনো রোগ-শোক বা বার্ধক্যের ছায়া ছিল না।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে অবারিত সুযোগ দিয়ে বললেন:
“হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা সাচ্ছন্দ্যে আহার করো…” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৩৫]
আদম (আ.) জান্নাতের ফলমূল ছিঁড়ে খেতেন, যা মুখে দেওয়ার সাথে সাথে সত্তর প্রকারের স্বাদ অনুভূত হতো। সেখানকার পাখিগুলো তাঁর সাথে কথা বলত, আর মলয় বাতাস তাঁর দেহকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিত। কিন্তু জান্নাতের এই অফুরন্ত প্রাচুর্যের মাঝেও আদম (আ.) যেন কোথাও একটি শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করলেন।
তিনি যখন জান্নাতের জোড়ায় জোড়ায় বিচরণকারী প্রাণীদের দেখতেন, তখন তাঁর মনে এক অদ্ভুত একাকীত্বের উদয় হতো। বিশাল এই জান্নাত, এত এত নেয়ামত—তবুও কথা বলার মতো, মনের ভাব আদান-প্রদান করার মতো তাঁর সমগোত্রীয় কেউ ছিল না। এই শূন্যতা ছিল আধ্যাত্মিক এবং মানসিক। মহান আল্লাহ, যিনি মানুষের হৃদস্পন্দন শোনেন, তিনি চাইলেন আদমের এই নিঃসঙ্গতা দূর করতে। এক শান্ত দুপুরের ঘুমে যখন আদম (আ.) মগ্ন ছিলেন, তখন জান্নাতে ঘটতে যাচ্ছিল আরেকটি অলৌকিক ঘটনা।
