আদম আলাইহিস সালাম: সৃষ্টির আদি কথা

« <
/ 40
> »

ফেরেশতাদের সামনে আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞানের পরীক্ষা
জান্নাতের সেই সুবিশাল প্রাঙ্গণে যখন আদম (আ.) মহাবিশ্বের গোপন রহস্য আর বস্তুনিচয়ের নামগুলো একের পর এক বলে যাচ্ছিলেন, তখন পুরো আকাশমণ্ডল যেন এক অপার্থিব নীরবতায় ডুবে গিয়েছিল। ফেরেশতারা, যাঁরা নূরের তৈরি এবং যাঁদের পবিত্রতায় কোনো খাদ নেই, তাঁরাও আজ এক নতুন বিস্ময়ের সাক্ষী হচ্ছিলেন।

এই পরীক্ষাটি ছিল মূলত একটি ‘তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব’ ও ‘ব্যবহারিক যোগ্যতা’র মিলনস্থল। আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের দেখিয়ে দিলেন যে, কেবল ইবাদত ও তাসবীহ পাঠই সৃষ্টিজগতের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; বরং সৃষ্টিজগতের প্রতিটি ধূলিকণা ও নক্ষত্রের পেছনের বিজ্ঞান ও কার্যকারণ সম্পর্ক উপলব্ধি করাও ইবাদতের একটি অংশ। আদম (আ.) সেই গভীর প্রজ্ঞার ধারক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন।

পরীক্ষা শেষে জান্নাতের অধিবাসীদের সামনে আদম (আ.)-এর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। ফেরেশতারা এখন বুঝতে পারলেন, কেন আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছেন। আদম (আ.)-এর মুখমণ্ডলের নূর তখন দ্বিগুণ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তাঁর এই উচ্চমর্যাদা কেবল ফেরেশতাদের প্রশংসায় সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং মহান আল্লাহ তাঁকে স্বয়ং জান্নাতের বিশেষ মেহমান হিসেবে ঘোষণা করলেন।

আদম (আ.)-এর এই জয়যাত্রা ছিল মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন বার্তা—জ্ঞানই হলো মানুষের আসল অলঙ্কার। যে জ্ঞান দিয়ে সে স্রষ্টাকে চিনবে এবং তাঁর সৃষ্টিকে জয় করবে।

« <
/ 40
> »