আমার ফাঁসি চাই

« <
/ 9
> »

বিশ্লেষণ এবং সামরিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যদি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে ঘোষণা করতেন এবং সুদূর ১২ হাজার মাইল দূর থেকে আসা পাকিস্তানি সৈন্যদের বন্দী করতে বলতেন, তাহলে পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর, পুলিশ ও জনতার যে লড়াই বা যুদ্ধ হতো, সেই যুদ্ধে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সামান্য রক্তপাতের বিনিময়েই আমাদের দেশ মুক্ত বা স্বাধীন হতো।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) পাকিস্তানি সৈন্য সংখ্যা এতই নগন্য ছিল যে, পাকিস্তানি পাঞ্জাবি, সিন্ধি, বেলুচ সৈন্য বাঙালি সৈন্যদের কাছে অসহায় এবং মুখাপেক্ষী ছিল। আবার এই পাকিস্তানি পাঞ্জাবি, সিন্ধি বেলুচ সৈন্যদের অধিকাংশই ছিল অফিসার। যারা যুদ্ধ পরিচালনা করে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধ করে না। এই নগন্য সংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্যকে ধরাশায়ী বা পরাস্ত করতে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর (আজকের বিডিআর) পুলিশ এবং সাড়ে সাত কোটি জনতার কোনোক্রমেই সপ্তাহের বেশি সময় লাগত না।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান স্পষ্টভাবে সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করায় এবং অনির্দিষ্ট সময় নিয়ে পাকিস্তানের কাছে ৪টি দাবি বা শর্ত দেয়ার সুযোগে পাকিস্তান দিবা-রাত্রি তাদের সৈন্য এবং অস্ত্র বাংলাদেশে এনেছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাকিস্তানের যত ননবেঙ্গলি সৈন্য ছিল, ৭ই মার্চ শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণের পর (৭ই মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত) পাকিস্তান বাংলাদেশে তার সৈন্য ও অস্ত্রসস্ত্র গোলাবারুদ বহুগুণ বেশি বৃদ্ধি করে এবং পাকিস্তানি ননবেঙ্গলি সৈন্যের সংখ্যা যখন বাঙালি সৈন্য সংখ্যার চাইতে বহুগুণ বেশি বৃদ্ধি হয় কেবল তখনই পাকিস্তানিরা বাঙালিদের আক্রমণ শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে পাকিস্তানিরা আক্রমণ করলে রাস্তাঘাত বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন। যার যা আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করার কথা বলেছেন। খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে টাকা-পয়সা পাঠানো বন্ধ করেছেন। ফলে পাকিস্তান ৭ই মার্চ থেকে তৎকালীন ঢাকা-তেজগাঁও বিমান বন্দর দিনরাত ২৪ ঘন্টা শুধু সৈন্য আনার কাজে ব্যবহার করেছে।

« <
/ 9
> »