মর্যাদা
বাদশাহ ইউসুফ (সা.)-এর প্রজ্ঞা ও সত্যবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের অতি আপনজন হিসেবে নির্বাচন করলেন।
وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِي ۖ فَلَمَّا كَلَّمَهُ قَالَ إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ
“আর বাদশাহ বলল—‘তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাঁকে আমার একান্ত ঘনিষ্ঠ করে নেব’। অতঃপর যখন সে তাঁর সাথে কথা বলল, তখন বলল—‘নিশ্চয়ই আপনি আজ আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাশালী ও বিশ্বস্ত’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৫৪]
যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রার্থনা
ইউসুফ (সা.) জানতেন যে, আসন্ন দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় তাঁর মতো আমানতদার ও জ্ঞানী ব্যক্তির দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। তাই তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় পদের প্রস্তাব দিলেন।
قَالَ اجْعَلْنِي عَلَىٰ خَزَائِنِ الْأَرْضِ ۖ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ
“সে (ইউসুফ) বলল—‘আমাকে দেশের অর্থভাণ্ডারের (খাদ্য ও সম্পদের) দায়িত্বে নিযুক্ত করুন; নিশ্চয়ই আমি এর যথাযথ হিফাজতকারী ও এ বিষয়ে সুকৌশলী জ্ঞানের অধিকারী’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৫৫]
মিশরে রাজকীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (সা.)-কে এমন এক স্থানে প্রতিষ্ঠিত করলেন যেখানে একসময় তিনি ক্রীতদাস হিসেবে এসেছিলেন।
وَكَذَٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ ۚ نُصِيبُ بِرَحْمَتِنَا مَن نَّشَاءُ ۖ وَلَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ
“আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই দেশে (মিশরে) সুপ্রতিষ্ঠিত করলাম; সে যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসবাস করতে পারত। আমি যাকে ইচ্ছা আমার রহমত দান করি এবং আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।” [সূরাহ ইউসুফ: ৫৬]
আমানতদারিতা ও পরকালের প্রতিদান
ইউসুফ (সা.)-এর এই সাফল্য ছিল কেবল দুনিয়াবী নয়, বরং এটি ছিল তাঁর তাক্বওয়ার ফল। আর মুমিনদের জন্য পরকালের প্রতিদান আরও বহুগুণ বেশি।
وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ
“আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করেছে, তাঁদের জন্য পরকালের প্রতিদানই শ্রেষ্ঠ।” [সূরাহ ইউসুফ: ৫৭]
নেতৃত্বের আমানতদারিতা সম্পর্কে হাদীস
ইউসুফ (সা.) যেভাবে দায়িত্ব চেয়ে নিয়েছিলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সেবা ও খিয়ানত রোধ করা। নবী (সা.) দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন—
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ…»
“ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত—নবী (সা.) বলেছেন: ‘তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের (দায়িত্বের) বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৮৯৩;
