কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

তিনি কেবল নিজে ইবাদত করতেন না, বরং তাঁর পরিবারকেও দ্বীনের পথে পরিচালিত করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।

وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا

“আর সে তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তাঁর প্রতিপালকের কাছে অত্যন্ত সন্তোষভাজন।” [সূরাহ মারয়াম: ৫৫]

বংশমর্যাদা ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী

রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে হযরত ইসমা‘ঈল (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব এভাবে বর্ণনা করেছেন—

عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ، وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ»

“ওয়াসিলাহ ইবনুল আসক্বা (রা.) থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমা‘ঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহ-কে বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে বেছে নিয়েছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে (মুহাম্মাদ) বেছে নিয়েছেন’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২২৭৬]

ইবরাহীম (সা.)-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

পুত্র ইসমা‘ঈলকে পেয়ে ইবরাহীম (সা.) আল্লাহর দরবারে যে শোকরিয়া আদায় করেছিলেন, তা কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে—

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ

“সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমা‘ঈল ও ইসহাককে দান করেছেন; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [সূরাহ ইবরাহীম: ৩৯]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা: ইসমা‘ঈল (সা.)-এর অন্যতম প্রধান গুণ ছিল ‘হালীম’ বা অত্যন্ত ধৈর্যশীল হওয়া। মুমিনের চরিত্রে এই গুণের প্রতিফলন থাকা অপরিহার্য।

ওয়াদা রক্ষা করা: তিনি আল্লাহর সাথে এবং মানুষের সাথে করা প্রতিশ্রুতি পালনে ছিলেন অটল, যা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা।

পারিবারিক দ্বীনদারী: নিজ পরিবারকে সালাত ও সৎ কাজের নির্দেশ দেওয়া নবীদের সুন্নাহ। অভিভাবক হিসেবে এটি প্রত্যেকের দায়িত্ব।

আল্লাহর সন্তুষ্টিই মূল লক্ষ্য: তিনি কেবল আমলই করতেন না, বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল আল্লাহর কাছে ‘মর্জী’ বা সন্তোষভাজন হওয়া।

দোয়ার ফসল: ইসমা‘ঈল (সা.) ছিলেন পিতা ইবরাহীম (সা.)-এর দীর্ঘদিনের দোয়ার ফল। এটি আমাদের শেখায় যে আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি নিরাশ করেন না।

অধ্যায়- ২: কুরবানীর ঘটনা

হযরত ইবরাহীম (সা.) স্বপ্নে আদিষ্ট হলেন যে, তিনি তাঁর কলিজার টুকরো পুত্র ইসমা‘ঈল (সা.)-কে আল্লাহর রাহে

« <
/ 118
> »