কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

(সা.) সালেহ (সা.)-এর এই অলৌকিক রক্ষা ও উটনীর মু‘জিযা সম্পর্কে সাহাবীদের নসীহত করেছেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «…وَنَجَّى اللَّهُ صَالِحًا وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الثَّالِثِ أَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ…»

“আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—‘…আল্লাহ সালেহ (সা.) ও তাঁর সাথে থাকা মুমিনদের রক্ষা করেছিলেন; অতঃপর যখন তৃতীয় দিন আসলো, এক ভয়াবহ গর্জন তাঁদের (কাফিরদের) পাকড়াও করল…’।” [সহীহুল বুখারী ও মুসলিমের তফসিরী বর্ণনা অনুযায়ী]

ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের শেষ পরিণতি

যালিমদের বাড়িঘরগুলো বিরান হয়ে পড়ে রইল, যা ছিল পরবর্তী জাতির জন্য মহাউপদেশ।

فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةً بِمَا ظَلَمُوا ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ। وَأَنجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ

“এই তো তাঁদের ঘরবাড়ি—যা তাঁদের যুলুমের কারণে জনশূন্য হয়ে পড়ে আছে; নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছিল ও তাকওয়া অবলম্বন করত, আমি তাঁদেরকে রক্ষা করেছি।” [সূরাহ আন-নামল: ৫২-৫৩]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

আল্লাহর ওয়াদা সত্য: আল্লাহ সবসময় তাঁর নবি ও মুমিনদের রক্ষার ওয়াদা করেন এবং চরম সংকটেও তা পূর্ণ করেন।

তাকওয়ার ফলাফল: কেবল ঈমান নয়, বরং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা ‘তাকওয়া’ ছিল তাঁদের রক্ষা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

যালিমদের সমূল উৎপাটন: যখন আল্লাহর আযাব আসে, তখন যালিমদের কোনো চিহ্নই পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকে না।

গোপন চক্রান্তের অসারতা: মানুষ আল্লাহর বিরুদ্ধে হাজারো চক্রান্ত করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কৌশলের সামনে সব চক্রান্তই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

মুমিনের সান্ত্বনা: এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, সংখ্যায় কম হলেও সত্যের পথে থাকলে শেষ পর্যন্ত বিজয় ও মুক্তি মুমিনদেরই হবে।

ইবরাহীম (আঃ)

অধ্যায়- ১: ইবরাহীম (সা.) এর মর্যাদা

হযরত ইবরাহীম (সা.) হলেন ইসলামি শরীয়তের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং সত্যের অন্বেষণে এক আপসহীন সেনানী। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ‘খলীলুল্লাহ’ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কেবল একজন নবীই ছিলেন না, বরং একাই ছিলেন একটি উম্মত বা আদর্শের প্রতীক। বর্তমান বিশ্বের প্রধান তিনটি ধর্ম—ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীরা তাঁকে তাঁদের আধ্যাত্মিক পিতা হিসেবে গণ্য করে। তাঁর সুদীর্ঘ জীবন ছিল কঠিন পরীক্ষা এবং চরম ত্যাগের এক মহাকাব্য। নমরূদের অগ্নিকুণ্ড থেকে শুরু করে নিজ সন্তানকে কুরবানী করার নির্দেশ—প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

‘খলীলুল্লাহ’ বা

« <
/ 118
> »