পুরো জাতি তাতে সম্মতি দিয়েছিল, তাই আযাব সবার ওপর এসেছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা সেই অন্যায়ে শরিক হওয়ার শামিল।
অহংকারের অন্ধত্ব: চাক্ষুষ মু‘জিযা দেখার পরেও যারা ঈমান আনে না, তারা মূলত নিজেদের বিবেকের কাছে পরাজিত।
ষড়যন্ত্রকারীর শেষ রক্ষা নেই: যারা আল্লাহর দ্বীন ও নবিদের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করে, আল্লাহ তাঁদের অলক্ষ্যে তার চেয়েও বড় কৌশল অবলম্বন করেন।
পাপের চূড়ান্ত সীমা: কোনো জাতি যখন আল্লাহর নিদর্শনকে সরাসরি ধ্বংস করতে উদ্যত হয়, তখন তাঁদের থেকে তওবাহর সুযোগ তুলে নেওয়া হয়।
অধ্যায়- ৬: সামূদ জাতিকে ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করা হলো
সালেহ (সা.) যখন তাঁদেরকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিলেন, তখন প্রথম দিন তাঁদের চেহারা হলুদ, দ্বিতীয় দিন লাল এবং তৃতীয় দিন কালো হয়ে গেল। চতুর্থ দিন ভোরে যখন তারা নিশ্চিত ধ্বংসের অপেক্ষায় ছিল, তখন এক ভয়াবহ গর্জন এবং প্রচণ্ড ভূমিকম্প তাঁদেরকে ঘিরে ধরল। তারা তাঁদের সুদৃঢ় অট্টালিকা ও পাহাড়ী গুহায় আশ্রয় নিয়েও বাঁচতে পারল না। এক নিমেষেই এক শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হলো।
ভয়াবহ গর্জন ও ভূমিকম্পের আঘাত
আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের ওপর এক প্রচণ্ড শব্দ ও ভূকম্পন পাঠালেন যা তাঁদের হৃৎপিণ্ড বিদীর্ণ করে দিল।
فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ
“অতঃপর এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প তাঁদেরকে পাকড়াও করল; ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৭৮]
وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ
“আর যারা যুলুম করেছিল এক ভয়াবহ গর্জন তাঁদেরকে আঘাত করল; ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল।” [সূরাহ হূদ: ৬৭]
সুদৃঢ় অট্টালিকা কোনো কাজে আসল না
পাথর কেটে বানানো তাঁদের সেই ‘নিরাপদ’ ঘরগুলো আল্লাহর আযাবের সামনে খড়কুটোর মতো ধসে পড়ল।
فَمَا أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
“অতঃপর তারা যা অর্জন করত (সম্পদ ও প্রাসাদ), তা তাঁদের কোনো কাজে আসল না।” [সূরাহ আল-হিজর: ৮৪]
সালেহ (সা.) ও মুমিনদের অলৌকিক মুক্তি
যথারীতি আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী ও অল্পসংখ্যক ঈমানদারদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন।
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صَالِحًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ
“অতঃপর যখন আমার আদেশ আসলো, তখন আমি সালেহকে ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাঁদেরকে আমার বিশেষ রহমতে
