নেই তো?
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى مَخِيلَةً فِي السَّمَاءِ أَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، وَدَخَلَ وَخَرَجَ، وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ… فَقَالَ: يَا عَائِشَةُ، مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ؟ قَدْ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى الْقَوْمُ الْعَذَابَ فَقَالُوا: {هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا}»
“আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘নবী (সা.) যখন আকাশে মেঘ দেখতেন, তখন তিনি অস্থির হয়ে সামনে-পিছে যেতেন, ভেতরে-বাইরে আসতেন এবং তাঁর চেহারার রং বদলে যেত। …তিনি বলতেন—হে আয়িশাহ! আমার কী নিশ্চয়তা আছে যে এতে আযাব নেই? একটি জাতিকে তো বাতাসের মাধ্যমেই আযাব দেওয়া হয়েছিল; আর সেই জাতি আযাব দেখে বলেছিল—{এটি তো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দেবে}’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৪৮২৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৮৯৯]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
খোদায়ী পাকড়াও: আল্লাহ সুযোগ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। আ‘দ জাতির মতো শক্তিশালী জাতিকেও আল্লাহ সামান্য বাতাসের মাধ্যমে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।
প্রকৃতি আল্লাহর সৈনিক: বাতাস, পানি, মাটি—সবই আল্লাহর নির্দেশের অনুগত। যখন আযাব আসে, তখন মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় নেয়ামতগুলোই (যেমন বাতাস) আযাবে পরিণত হতে পারে।
সতর্কতার অভাব: পাপিষ্ঠরা আযাবের লক্ষণ দেখেও সেটিকে নেয়ামত মনে করে ভুল করে। ঈমানদারের উচিত মেঘ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া।
ঈমানের নিরাপত্তা: দুনিয়ার সব ধ্বংসের মাঝেও আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের হেফাজত করেন। হূদ (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের বেঁচে যাওয়া এরই প্রমাণ।
গর্বের অবসান: আ‘দ জাতির সুউচ্চ অট্টালিকা তাঁদের রক্ষা করতে পারেনি। মানুষের তৈরি কোনো প্রযুক্তি বা দুর্গ আল্লাহর ফয়সালার সামনে অকেজো।
সালেহ (আঃ)
অধ্যায়- ১: ছামূদ জাতির পরিচয়
আদ জাতির ধ্বংসের পর আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যে শক্তিশালী জাতিকে নেতৃত্ব দান করেছিলেন, তারা হলো ছামূদ জাতি। তারা উত্তর হিজাযের (বর্তমান সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমে) ‘আল-হিজর’ নামক এলাকায় বসবাস করত। এই জাতি স্থাপত্যবিদ্যায় ও কারুশিল্পে ছিল এক অনন্য উচ্চতায়। তারা পাহাড় কেটে এমন সব প্রাসাদ নির্মাণ করত, যা আজও মানুষকে বিষ্মিত করে। কিন্তু প্রাচুর্য ও শক্তির চরম শিখরে পৌঁছে তারা তাদের পূর্বসূরি আদ জাতির মতোই অহংকারী হয়ে ওঠে এবং এক আল্লাহর ইবাদত ত্যাগ করে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের হেদায়েতের জন্য তাঁদেরই এক সম্মানিত পুরুষ সালেহ (সা.)-কে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
আদ জাতির
