করো, যিনি তোমাদেরকে সেই সব বিষয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো। তিনি তোমাদেরকে গবাদিপশু ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে এবং বাগানসমূহ ও প্রস্রবণসমূহ দিয়ে সাহায্য করেছেন।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৩২-১৩৪]
কোনো প্রতিদান না চাওয়ার নিশ্চয়তা
অন্যান্য নবীগণের মতো হূদ (সা.)-ও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তিনি এই দাওয়াতের বিনিময়ে কোনো পার্থিব স্বার্থ খুঁজছেন না।
يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
“হে আমার কওম! আমি এই কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; তবুও কি তোমরা বুঝবে না?” [সূরাহ হূদ: ৫১]
আল্লাহর আযাবের ভয় প্রদর্শন
বারবার বোঝানোর শেষে তিনি তাঁদেরকে একটি মহাদিবসের আযাবের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
“নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আযাবের ভয় করছি।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৩৫]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
দ্বীন ও দুনিয়ার সমন্বয়: হূদ (সা.) শিখিয়েছেন যে, আল্লাহর পথে চললে দুনিয়াতেও বরকত ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।
সৃজনশীলতা বনাম অপচয়: শিল্পের প্রয়োজনে কিছু নির্মাণ করা বৈধ, কিন্তু নিছক বিলাসিতা ও অহংকার প্রদর্শনের জন্য সম্পদের অপচয় করা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়।
নিষ্কাম দাওয়াত: একজন দাঈর বৈশিষ্ট্য হলো সে মানুষের কাছে কোনো কিছু প্রত্যাশা করবে না, বরং তার সব আশা থাকবে আল্লাহর কাছে।
বিবেকের জাগরণ: “অ্যাফালা তা‘ক্বিলূন” (তবুও কি তোমরা বুঝবে না?)—এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি মানুষকে যুক্তি ও বিবেক ব্যবহার করার তাগিদ দিয়েছেন।
মমতা ও কঠোরতার ভারসাম্য: নবীগণ মানুষকে যেমন জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তেমনি অবাধ্যতার চরম পরিণতির কথা বলে ভয়ও দেখিয়েছেন।
অধ্যায়- ৫: ঈমান না আনায় জাতির লোকেরা ধ্বংস হলো
আ‘দ জাতি তাদের শারীরিক শক্তি ও অট্টালিকার মোহে এতটাই অন্ধ ছিল যে, তারা আল্লাহর আযাবকে উপহাস করে দ্রুত নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ করেছিল। অবশেষে তাদের ওপর নেমে এল এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড়। তারা যখন দিগন্তে মেঘ দেখল, তখন মনে করেছিল যে তা হয়তো বৃষ্টির মেঘ; কিন্তু আসলে তা ছিল আল্লাহর আযাব। একটানা সাত রাত ও আট দিন ধরে চলা সেই প্রবল বাতাস আ‘দ জাতিকে সমূলে নির্মূল করে দিল। বিশাল দেহের অধিকারীরা খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়ে নিক্ষিপ্ত হলো। এই অধ্যায়ে আমরা
