“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ‘আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৩৩২৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৮৪১]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
পরামর্শের মাহাত্ম্য: আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ফেরেশতাদের সাথে কথা বলে সমাজ বা পরিবারে বড় সিদ্ধান্তের আগে আলোচনার এক সুন্দর শিক্ষা দিয়েছেন।
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব: ফেরেশতাদের ইবাদত থাকা সত্ত্বেও আদম (আ.) কেবল তাঁর ‘জ্ঞানের’ কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে মানুষের আসল অলঙ্কার হলো জ্ঞান।
মানুষের দায়িত্ব: খলীফা বা প্রতিনিধি হওয়ার অর্থ হলো পৃথিবীতে আল্লাহর আইন ও ইনসাফ কায়েম করা।
ফেরেশতাদের আদব: ফেরেশতাগণ প্রশ্ন করলেও তা অবাধ্যতার জন্য ছিল না, বরং জানার জন্য ছিল। আল্লাহর উত্তরের পর তাঁরা তৎক্ষণাৎ আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা: মানুষের সৃষ্টি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর সুদূরপ্রসারী ও মহিমান্বিত এক পরিকল্পনার অংশ।
অধ্যায়- ২: জান্নাতে বসবাস
আদম (আ.)-কে সিজদাহ করার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দেন। জান্নাত ছিল এক অপার সুখ ও শান্তির জায়গা, যেখানে ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা ক্লান্তির কোনো স্থান ছিল না। আল্লাহ তাঁদেরকে জান্নাতের সব নেয়ামত ভোগের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, কেবল একটি বিশেষ গাছ ছাড়া। এই বসবাসের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদেরকে জান্নাতের আস্বাদন করান এবং একইসাথে একটি ছোট নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাঁদের আনুগত্যের পরীক্ষা নেন।
জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ ও নেয়ামত ভোগ
আল্লাহ তা‘আলা আদম ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে অবস্থান এবং স্বচ্ছন্দে খাবার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا
“আর আমি বললাম—‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তা থেকে যা চাও স্বচ্ছন্দে খাও’।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৩৫]
নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও শয়তানের শত্রুতা সম্পর্কে সতর্কবাণী
জান্নাতের সব কিছু বৈধ হলেও একটি গাছ ছিল নিষিদ্ধ এবং শয়তান যে তাঁদের প্রকাশ্য শত্রু, সে বিষয়ে আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করেছিলেন।
وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ
“কিন্তু এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৩৫]
فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰ
“অতঃপর আমি বললাম—‘হে আদম! নিশ্চয়ই এ
