আর আমি জমিন থেকে ঝর্ণাসমূহ উৎসারিত করলাম; ফলে উভয় পানি মিলিত হলো এক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী।” [সূরাহ আল-ক্বামার: ১১-১২]
নূহ (সা.)-এর কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর প্রশংসা
নবী (সা.) নূহ (সা.)-কে ‘কৃতজ্ঞ বান্দা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ তিনি বিপদেও আল্লাহর প্রশংসা ভুলতেন না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «…إِنَّ نُوحًا كَانَ عَبْدًا شَكُورًا، فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ: يَا نُوحُ، مَنْ يَشْهَدُ لَكَ بِالْبَلَاغِ؟…»
“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ‘…নিশ্চয়ই নূহ ছিলেন এক কৃতজ্ঞ বান্দা। আল্লাহ তাঁকে বলবেন—হে নূহ! কে তোমার বাণী পৌঁছানোর সাক্ষী দেবে?…’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৪৪৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯৪]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
শেষ আশ্রয় আল্লাহ: যখন চারদিক থেকে বিরোধিতা ও শত্রুতা মানুষকে ঘিরে ধরে, তখন একমাত্র আল্লাহর দরবারেই ফরিয়াদ জানানোই হলো মুমিনের কাজ।
দোয়ার বিশালতা: নূহ (সা.) কেবল নিজের জন্য নয়, বরং তাঁর পরিবার এবং সকল মুমিন নর-নারীর জন্য দোয়া করেছেন, যা পরোপকারিতার শিক্ষা দেয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা: পাপাচারী সমাজ ও পরিবেশ যেন পরবর্তী প্রজন্মকে কলুষিত না করে, সেই লক্ষ্যে নূহ (সা.) কঠোর ব্যবস্থা বা দোয়ার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আল্লাহর তাৎক্ষণিক সাহায্য: যখন কোনো নবী বা আল্লাহর প্রিয় বান্দা অসহায় হয়ে ডাক দেন, তখন আল্লাহ আসমান ও জমিনের স্বাভাবিক নিয়ম পরিবর্তন করে সাহায্য পাঠান।
কৃতজ্ঞতা ও সবর: নূহ (সা.) দীর্ঘ সাড়ে নয়শো বছর সবর করেছেন এবং সর্বাবস্থায় কৃতজ্ঞ ছিলেন বলেই তিনি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
অধ্যায়- ৭: নূহ (সা.) এর নৌকা তৈরি
নূহ (সা.) যখন আল্লাহর কাছে তাঁর জাতির পাপাচারের বিরুদ্ধে ফরিয়াদ জানালেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে একটি মহাপ্লাবনের সংবাদ দিলেন। এই প্লাবন থেকে মুমিনদের এবং প্রাণিকুলকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাঁকে একটি বিশাল কিশতী নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। মরুভূমি বা লোকালয়ের মাঝে যেখানে কোনো নদী বা সমুদ্রের চিহ্ন নেই, সেখানে বিশাল এক নৌকা তৈরি করা ছিল সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে বিস্ময়কর। নূহ (সা.) কাঠ ও পেরেক দিয়ে আল্লাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই নৌকা তৈরি করতে থাকেন। আর কাফিররা যখনই সেখান দিয়ে যেত, তারা এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখে তাঁকে নিয়ে উপহাস করত।
আল্লাহর তত্ত্বাবধানে নৌকা নির্মাণের নির্দেশ
আল্লাহ তা‘আলা নূহ (সা.)-কে তাঁর সরাসরি
