কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

“আর তোমরা প্রতিটি পথে (মানুষকে) ভয় দেখানোর জন্য এবং যে আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে তাঁকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার জন্য বসে থেকো না এবং তাতে (দ্বীনের পথে) বক্রতা খুঁজো না।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৮৬]

হারামের মোহে হালালকে তুচ্ছ জ্ঞান করা

শু‘আইব (সা.) তাঁদের বুঝিয়েছিলেন যে, সততার সাথে অর্জিত সামান্য সম্পদও অসততার মাধ্যমে অর্জিত বিশাল সম্পদের চেয়ে উত্তম।

بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ

“আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবশিষ্ট থাকে (হালাল রিযিক), তা-ই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা মুমিন হও; আর আমি তোমাদের ওপর কোনো সংরক্ষক নই।” [সূরাহ হূদ: ৮৬]

অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ সম্পর্কে হাদীস

অন্যের হক নষ্ট করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করার পরিণতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاحَ فَلَيْسَ مِنَّا، وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; আর যে ব্যক্তি আমাদের প্রতারণা করে সেও আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৬৪]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

শিরক ও নৈতিক পতন: যখন একটি জাতি আকিদাগতভাবে বিচ্যুত হয়, তখন তাঁদের মধ্যে নৈতিক ও চারিত্রিক পতন অবধারিত হয়ে পড়ে।

হক্বুল ইবাদ বা বান্দার হক: মাদইয়ানবাসীদের অপরাধ কেবল আল্লাহর সাথে নয়, বরং মানুষের অধিকার হরণের সাথেও যুক্ত ছিল। বান্দার হক নষ্ট করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

বিলাসবহুল জীবনের মোহ: অতিরিক্ত প্রাচুর্য মানুষকে অনেক সময় আল্লাহর অবাধ্য করে তোলে এবং দুর্নীতির পথে ঠেলে দেয়।

হালাল উপার্জনের বরকত: মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত হালাল রিযিক অন্বেষণ করা, পরিমাণ যাই হোক না কেন।

শয়তানী ধোঁকা: পাপিষ্ঠরা মনে করত মানুষকে ঠকিয়ে তাঁরা লাভবান হচ্ছে, অথচ তাঁরা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল।

অধ্যায়- ৪: নবীর সাথে জাতির আচরণ

হযরত শু‘আইব (সা.) ছিলেন অত্যন্ত সুবক্তা। তাঁর চমৎকার বাচনভঙ্গির কারণে তাঁকে ‘খাতীবুল আম্বিয়া’ বলা হতো। কিন্তু তাঁর জাতির প্রভাবশালীরা তাঁর প্রজ্ঞা ও নসীহতকে অবজ্ঞার চোখে দেখত। তাঁরা শু‘আইব (সা.)-এর ব্যক্তিগত ইবাদত (সালাত) নিয়ে বিদ্রূপ করত এবং তাঁকে একজন ‘দুর্বল’ ও

« <
/ 118
> »