করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে এসো (তওবা করো); নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি দয়ালু, পরম প্রেমময়।” [সূরাহ হূদ: ৯০]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
অর্থনৈতিক সততা: মাপে কম দেওয়া এবং অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং এটি একটি জাতির ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
সংশোধনের মানসিকতা: একজন মুমিনের লক্ষ্য হবে সাধ্যমতো চারপাশকে সংশোধন করা, যা শু‘আইব (সা.) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
শিরক ও দুর্নীতি: আকিদার পচন (শিরক) থাকলে মানুষের চরিত্রেও পচন (দুর্নীতি) ধরে। তাই তাওহীদই হলো সকল সংশোধনের মূল।
বক্তব্যের মাধুর্য: দাওয়াতের ক্ষেত্রে ভাষা হতে হবে যুক্তিপূর্ণ ও বিনম্র, যাতে মানুষের হৃদয়ে তা রেখাপাত করে।
আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া: আল্লাহ মানুষকে যে সম্পদ দেন, তাঁর ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া ঈমানের দাবি।
অধ্যায়- ২: শু‘আইব (সা.) এর সাথে জাতির আচরণ
হযরত শু‘আইব (সা.)-এর কওম ছিল অত্যন্ত অহংকারী ও দুনিয়ালোভী। তাঁরা মনে করত যে তাঁদের ধন-সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারে। শু‘আইব (সা.) যখন তাঁদের অর্থনৈতিক সততা ও এক আল্লাহর আনুগত্যের কথা বললেন, তখন তাঁরা তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে উপহাস করতে শুরু করল। তাঁরা তাঁকে দুর্বল মনে করত এবং তাঁর কথাকে ‘জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। পরিশেষে তাঁরা তাঁকে পাথরের আঘাতে হত্যা করার হুমকি দেয় এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা মানতে অস্বীকার করে।
শু‘আইব (সা.)-এর নামাজ ও নসীহত নিয়ে উপহাস
পাপিষ্ঠ জাতিটি শু‘আইব (সা.)-এর ইবাদত ও দ্বীনদারিতা নিয়ে বিদ্রূপ করত এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দোহাই দিত।
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ
“তাঁরা বলল—‘হে শু‘আইব! আপনার সালাত কি আপনাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে? অথবা আমাদের ধন-সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছা করি তা ছেড়ে দিতে হবে? আপনি তো দেখি বড়ই ধৈর্যশীল ও সুপথগামী!’” [সূরাহ হূদ: ৮৭]
দেশান্তরের হুমকি ও প্রভাবশালীদের দম্ভ
যখন তাঁরা যুক্তিতে পেরে উঠল না, তখন তাঁরা শু‘আইব (সা.) ও তাঁর মুমিন অনুসারীদের জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখাল।
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِن
