একটা পাথর এমন ভাবে বসানো যে, কয়েকজন মিলে পেছন থেকে ধাক্কা দিলেই সেটা নিচে পড়ে যাবে। সম্ভবতঃ দূর্গের দিকে আসার পথ ঐ দিকে ছিল এবং শত্রু এলে ঐ পাথর ফেলে দিয়ে তাদের প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই পাথরটি বসানো হয়েছিল। প্রথমে দূর্গ হিসাবে ব্যবহার করা হলেও পরে এটি রাজদ্রোহী কয়েদীদের জন্য কয়েদখানা হিসাবে ব্যবহার করা হত। রাজা সালমারের নামে দূর্গটির নাম। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলনা। তবে দেওয়ালের কিছু অংশ যে আধুনিক কালে মেরামত করা হয়েছে তা বেশ বোঝা যায়। দূর্গটির চারধারেই নিচের বিরাট পাথরটির গায়ে অনেকগুলো মাটির বাড়ী, যেখানে এখনও মানুষ বাস করে। দূর্গটির অযত্ন ও দৈন্যদশা চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে অবাক লাগে এই প্রকান্ড পাথর ছাড়া আশে পাশের পুরা এলাকা একদম সমতল, কোন পাথরও নাই- পাহাড় তো দূরের কথা।
বাগদাদী মসজিদের পর হযরত আবু বকর (রা.) মসজিদে যেয়ে আমরা একদিন বেশি থাকলাম। সাথীরা মার্কাজের মুরুব্বীদের যে ভাবেই হোক রাজী করিয়ে দুই দিনের বদলে তিন দিন ওখানে রাখলেন। আধুনিক মসজিদ। প্রচুর সাথী এবং কাজও ভালই হল। এর পরে আবার পুরাতন শহরের গাজী মসজিদে এলাম। এখানেও আগে ইহুদীদের বসতি ছিল। চার/পাঁচ তলা বাড়ী এখানেও ঐ একই ধাঁচে এখনও তাদের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। এদিকের সব রাস্তাই চৌকনা পাথরের তৈরি। শহরটি বেশ বড়। শহরের শেষ প্রান্তে উত্তরাংশে কিছু ছোট পাহাড় এবং মরুপ্রায় অঞ্চল আছে যেখানে কাঁটা গাছ ও বাবলা গাছ ছাড়া আর কোন ফসল হয়না। এদিকে নূতন ভাবে বসতি স্থাপনের প্রয়াস দেখা গেল। বসতির শেষের দিকে বেশ বড় একট মসজিদ আছে। এটাই রদার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। এক হাজার বছরের পুরাতন মসজিদের নাম আমেরিয়া মসজিদ। পুরাতন হওয়া ছাড়াও এর অনন্য যে বৈশিষ্ট্য ছিল তা হল এই মসজিদে ব্যবহৃত সব খুঁটি খুবই দামী কাঠ ‘উদ’ এর ছিল। পৃথিবীর অন্যতম দামী আতর উদ এই গাছের কাঠ দিয়েই তৈরি হয়। ফলে যা হবার তাই হল। আধুনিক সভ্য মানুষ যে যখন সুযোগ পেয়েছে সংস্কারের নামে ঐ দামী কাঠ সরিয়ে সাধারণ কাঠের খুঁটি দিয়ে অপসংস্কার করেছে। ফলে মসজিদটি তার বৈশিষ্ট্য এবং স্থায়ীত্ব উভয়ই হারিয়েছে। বর্তমানে মসজিদ ও এর আশেপাশের জায়গায় সংস্কার ও বাগান তৈরি করে পর্যটন স্পট হিসাবে এর ঐতিহাসিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সরকার। এখানে এখন আপাততঃ নামায পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সাথীরা জানালেন।
রেদায় এ নূতন মার্কাজ এর বিশাল এলাকা ঘিরে প্রকান্ড মসজিদ তৈরির কাজ চলছে। প্রতি কাতারে পাঁচ হাজার মুসল্লি হিসাবে ত্রিশ কাতারে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়বে। এই দিকে লোক বসতি প্রায় নাই
