ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। হয়ত ভবিষ্যতে ঐসব জায়গায় নতুন যুগের দালান উঠবে। এই এলাকায় থাকাকালীন সময়ে আমরা দুইটা বাড়ীতে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম। ভেতরে পাথরের সিঁড়ি এবং চারধারের মাটির দেওয়াল গুলো রং করা। শীতে এসব ঘর গরম এবং গরমের দিনে বেশ ঠান্ডা থাকে। এই দুই বাড়ির একটি ছিল চিল্লার সাথী ভাই মোহাম্মদ আলীর। জুমার দিন বিধায় তিনি তার বাড়িতে আমাদের গোসলের ব্যবস্থা করেন। বাগদাদী মসজিদের প্রায় সমসাময়িক এবং ছয়শত বছরের পুরানো এ এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে জুমার নামায পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সাথীরা। নাম মাদ্রাসা মসজিদ। বেশ সকাল সকাল আমরা রওয়ানা হলাম মসজিদের উদ্দেশ্যে। কারণ এ দেশে প্রায় সব মসজিদেই জুমার আযান হয় ১১:৩০ মিনিটে এবং বারটার পাঁচ/দশ মিনিট পরেই বেশ লম্বা চওড়া খোতবা শুরু হয়। মসজিদের অবস্থা ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের মতো। এলাকার বিভিন্ন স্থানের মানুষ এখানে জুমার নামায পড়তে আসেন। পরিবেশ বেশ স্নিগ্ধ ও কেমন যেন একটা পবিত্র পবিত্র ভাব। প্রচুর মানুষ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করছে। সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভাল লাগল। নামায শেষে আবার ভাই মোহাম্মদ আলীর বাসায় ফিরে খেতে বসে জানলাম তিনি শুধু মাত্র মাদ্রাসার শিক্ষকই নন, এই এলাকার একজন উঁচুদরের আলেমও। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছেন তবুও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অল্প দিনের মধ্যেই তিনি দাওয়াতের মেহনত নিয়ে বিদেশ সফরে যাবেন। আমার এই পাণ্ডুলিপি তৈরির সময়ের মধ্যেই তিনি সত্যি ভারত সফর শেষে আগস্ট মাসের প্রথম দিকে নয় জন সাথীসহ বাংলাদেশে এসেছেন এবং পাবনায় ত্রিশদিন সময় লাগানোকালীন আমাদের সবার সঙ্গে দেখা করেছেন। আল্লাহ তাকে উপযুক্ত যাযা খায়ের দান করুন এবং তার অসুখ থেকে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলুন। আমিন।
মাদ্রাসা মসজিদের অল্প কিছু দক্ষিণেই আল মোহরাবা স্ট্রিটের উপর প্রায় দুই হাজার বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক সালমার দূর্গটি মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন প্রাচীন দূর্গের মতো একই ধাঁচে দূর্গটি তৈরি করা। কোনায় কোনায় ওয়াচ টাওয়ার একটু গোল হয়ে প্রাচীরের দেওয়াল থেকে একটু বের হয়ে নিজের স্বকীয়তা প্রকাশ করছে। মূল বৈশিষ্ট্য অন্যত্র। প্রায় তিন তলা সমান উঁচু একটা বিরাট সমতল পাথরের উপরে পুরা দূর্গটি তৈরি। প্রকান্ড সাইজের গোটা পাথরটি মনে হয় যেন তুলে এনে সমতল ভূমির উপর বসানো এবং কৃত্তিমভাবে তৈরি প্রবেশ পথ ছাড়া কোনদিক দিয়েই দূর্গের উপরে উঠা যায় না। প্রায় একশত চল্লিশ/একশত পঞ্চাশ হাতের মতো চারদিকের প্রাচীর চৌকনা পাথরের টুকরা দিয়ে তৈরি। প্রবেশ পথ বন্ধ এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢোকা যায়না। উত্তর পূর্ব কোণে একটু কোনা বেড়িয়ে থাকা পাথরের উপর বেশ বড়

« <
/ 114
> »