প্রস্রবন এবং ইহুদীদের তৈরি প্রচুর পুরাতন বাড়ী। বাড়ীগুলোর চারদিকের দেওয়াল পুরু করে মাটির প্রলেপ বা প্লাষ্টারিং করা। আমাদের ইচ্ছা ছিল, সম্ভব হলে হুজুর (স.) এর প্রিয় সাহাবী, ইয়েমেনের মানুষ, হযরত আলী ও আমির মুয়াবিয়ার (রা.) মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হযরত আবু মুসা আল আশারী (রা.) এবং ইয়েমেনের প্রথম গভর্ণর হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) এর মসজিদ দেখে যাওয়া। কিন্তু রাস্তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে এবং মার্কাজে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে যাবে জন্য সে আশা মনের ভেতরে চেপে রেখেই রেদায় মার্কাজে এসে পৌঁছালাম। এটা রেদায় শহরের পুরাতন অংশের একটা বড় মসজিদ। আগে এখানে ইয়েমেনের এস্তেমা হয়েছে। এমনকি মওলানা সাদ (রহ.) ও বার/চৌদ্দ বৎসর আগে এখানের এস্তেমায় এসেছিলেন ২ বার। সাথীরা সে কথা গর্ব ভরে জানালেন।
প্রশস্ত গেট দিয়ে গাড়ী ঢুকতেই চার/পাঁচ জন সাথী আমাদের দেখে এস্তকবালের জন্য এগিয়ে আসলেন। ভাই আবু রেজাল সম্ভবতঃ আগেই মোবাইলে যোগাযোগ করেছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরো দশ/বার জন সাথী এসে হাজির। সবাই খুব আন্তরিক। জানলাম, এখানে আগামীকাল এলাকার মাশোয়ারা আছে। সুতরাং আমাদের রোখ মাশোয়ারায় ঠিক করা হবে। আমরা নিজেদের অবশিষ্ট দিনের মাশোয়ারা করে নিলাম। তিনশত/তিনশত পঞ্চাশ গজ দূরে একটা মসজিদ আছে। সিদ্ধান্ত হল, যেহেতু মার্কাজের আশে পাশে বসতি তেমন নাই, সুতরাং ঐ মসজিদে যেয়ে গাস্ত, বাদ মাগরীব বয়ান এবং বাদ এশা কেতাবী তালিম শেষ করে আমরা আবার মার্কাজে ফিরে আসব।
মসজিদে যাওয়ার পথের দু’পাশে প্রচুর কাদ এর ক্ষেত। সবাই ক্ষেতে কাদ এর পরিচর্যায় ব্যস্ত। ফলে আমাদের গাস্তও কাদ ক্ষেত কেন্দ্রিক হল। মাগরিবে বেশ ভাল জমায়েত হল। বয়ান, তাশকীল ও বাদ এশা হায়াতুস সাহাবা পর্যন্ত লোকজন ধৈর্য ধরে মসজিদেই থাকল। জিবুতীর এক সাথী মার্কাজে বেশ নিয়মিত সময় দেন। তিনি গাড়ীতে করে আমাদের মার্কাজে নিয়ে এলেন। মার্কাজের প্রায় সংলগ্ন রেদায় বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় দিন খুশুশি গাস্তে ২ জন করে সাথী বিভিন্ন দিকে গেলেন। আমাদের দায়িত্বে পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় সব ছাত্রই একমাত্র আরবী সাহিত্য এবং কোরআন-হাদীস ছাড়া অন্য কিছু পড়ে না। ভাগ্যক্রমে ইংরেজী বিভাগের কিছু ছাত্র এবং দুই জন শিক্ষকের দেখা পেলাম, কথাও হল। ভাঙ্গা ভাঙ্গা আরবীতে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে যা পারলাম, বললাম।
দুপুরের আগেই স্থানীয় সাথীরা মার্কাজে আসছিলেন। আসরের নামাযের পর তিন দলে ভাগ হয়ে সাথীরা মাশোয়ারা শুরু করলেন। রাত্রে আমাদের জানানো হল যে, প্রতি সপ্তাহের বুধবারে এক সপ্তাহের জন্য আমাদের রোখ দেওয়া হবে। এ সপ্তাহে আমাদের জন্য ঐতিহাসিক বাগদাদী মসজিদে দুই দিন,
