ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

খুলে সবুজ মখমলের পোষাকে নিজেকে আবৃত করে নিল। অদ্ভুদ সুন্দর স্নিগ্ধ শ্যামল পরিবেশ। রাস্তার দুই ধারেই আলু, টমেটু ইত্যাদি সবজি এমনকি গমের ক্ষেত চোখে পড়ল। গমের শিষ বেশ বড় ও পুরুষ্ট হয়ে ক্ষেত ভরে আছে। তার পর একটা ছোট বাজার। এরপরে যে দৃশ্য দেখলাম তা আমাদের দেশে দেখা যায় না। যত দূর চোখ যায় সবুজ ক্ষেতের উপর হালকা মতো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রথমে বীজ তলা বলে ভুল হলেও ভুল ভাঙ্গতে সময় লাগল না বেশি। রাস্তার একদম কাছেই এ রকম কয়েকটি ক্ষেত চোখে পড়তেই অবাক হয়ে দেখলাম, ইয়েমেনের জীবন্ত অভিশাপ, ইয়েমেনের সোনার বিষ বৃক্ষ, গরীবকে আরো গরীব করার ও ধনীকে আরো ধনী বানানোর সোনার জীয়ন কাঠি কাদের ক্ষেত এগুলো। সুন্দর করে সারি বেঁধে লাগানো গাছগুলো আধ হাত থেকে এক হাত করে উঁচু। রাক্ষসের রক্ত চোষা জিহ্বার মতো হালকা খয়েরী কচি ও নরম লক লকে পাতাগুলো বাতাসে দোলা খাচ্ছে। রোদের আঁচ সহনীয় রাখতে মাথার উপরে মশারীর নেটের মতো এক ধরনের জালি পুরা ক্ষেতের উপরে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। স্নিগ্ধ মনটা বিষিয়ে গেল। মাঝে মধ্যেই প্রায় ক্ষেত্রের পাশেই অল্প কিছু দূরে দোতলা ওয়াচ টাওয়ার দৈত্যের মতো একাকী দাঁড়িয়ে আছে। অমূল্য সম্পদ কাদ যেন রাত্রে চুরি না হয় তার জন্য রাত্রে এ. কে-৪৭ হাতে পাহাড়াদাররা সারা রাত কাদের ক্ষেত পাহাড়া দেয় আর গাল ফুলিয়ে কাদ খায়।
অবশেষে আমাদের গাড়ীর চাকা শহর স্পর্শ করল। প্রচুর দোকান, হোটেলও প্রচুর। হোটেল গুলোর সামনে বেঁধে রাখা আছে কয়েকটা করে দুম্বা ও গরুর বাছুর। ইয়েমেনের মানুষ বোধ হয় বড় গরু খায় না। এ পর্যন্ত কোন দোকান ও হাটে বড় গরু জবেহ হতে দেখিনি। নধরকান্তি বাছুরগুলো বেশ বড় রাম ছাগলের সাইজের। দুম্বা ও খাসির বাচ্চাও প্রায় তিন/চার মাসের মত বয়েস হবে। এখানে যে হোটেলে আমরা নাস্তা করলাম সেখানে দেখলাম, দুম্বার বাচ্চা জবেহ করে বিভিন্ন সাইজ করে কেটে ছোট ছোট প্লেটে সাজিয়ে রেখেছে। যার যেটা পছন্দ সেটা কিনে দিলেই সেই গোস্ত পছন্দ মতো রান্না হয়ে ক্রেতার টেবিলে চলে আসছে অনেকটা ইউরোপ আমেরিকার স্টাইলে। এসব গরুর বাচ্চাদের গোস্ত খেতে একদম খাসীর গেস্তের মতো, নরম ও আঁশ বিহীন।
রেদায়কে বলা হয় ইয়েমেনের হৃদয় বা জ্বলবে ইয়েমেন। জেলা নয় বরং একটা থানার মতো অথচ এখানে পাওয়া যায় না এমন কিছু নেই। বড় বড় কোম্পানীর সব ধরনের মোটর এর শো রুমও এ শহরে আছে। কাদের জন্য এখানের পরিচিতি ব্যাপক। ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় শহর হিসাবে এখানে একটি প্রায় দুই হাজার বছরের পুরাতন দূর্গ, সম্রাট আমর আব্দুল ওয়াহাব নির্মিত পুরাতন বাগদাদী মসজিদ, প্রাকৃতিক বিস্ময় দামৃত এর পাথরের কুপ এবং উষ্ণ

« <
/ 114
> »