ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

গাড়ীতে উঠে বসলাম তখনও ঘড়ির কাঁটা দৌড়িয়ে ভোর ছয়টার ঘর ছুঁতে পারেনি। মার্কাজের মাদ্রাসার কিছু ছাত্র ও সাথী ভাই এসে আমাদের বিদায় জানাচ্ছিলেন। সূর্যের আলো তখন সবে সোনালী হলুদ রং ধরেছে। তার সাথে তাল মিলিয়ে ড্রাইভারের পা স্পিডো মিটারের কাঁটাকে চঞ্চল করে তুলল। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই চমৎকার পিচঢালা রাস্তা ধরে একশত বিশ কি.মি. বেগে আমাদের নিয়ে হাইলাক্স “২৭০০ ই.এফ, আই” একটানা খ্যাপা মোষের মতো দৌড়াতে লাগল। শহর তখনও ঘুমের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। রাস্তা বেশ ফাঁকা। আমরা চলেছি যেন “যায় তুফান মেল।”
সকাল আটটায় নাস্তার বিরতি। এদেশের পরোটা গুলো বেশ চমৎকার। মাঝারী সাইজের সসপেনের ঢাকনীর সমান প্রত্যেকটা পরোটার ভেতরে সাত/আট পরদ। এর উপরের ও নিচের পরদ সোনালী ও মচমচে। ভেতরের পরদ গুলো হালকা হলুদ ও নরম। সঙ্গে গুড়া গুড়া ডিম টমেটুর তরকারী (শুকশুকা) ও গোস্তের কিমা। এদেশী সাথীরা সঙ্গে চা নিলেন। আবার গাড়ী ছুটল দূরন্ত বেগে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিন্তু একি? আবার যে সব পাহাড় দেখা যাচ্ছে? আমাদেরকে আর পাহাড়ে রোখ দেওয়া হবে না বললেন অথচ আবার সেই পাহাড়ে। বিষয়টি কি? যতই সময় যাচ্ছে পাহাড়ের উচ্চতা ও রুক্ষতা সেই অনুপাতে ততই বাড়ছে। এর মধ্যেই সাত/আটটা ওয়াস পার হয়েছি। গতকাল রাত্রে এদিকে বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার আশে পাশের জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। রাস্তার দুই ধারেই অসংখ্য আম গাছ ফলভারে অবনত। অধিকাংশই মাটি ছুঁই ছুঁই হয়ে আছে। ওয়াসের উপর দিয়ে বেগে পানি নামছে তবে আধ হাতের বেশি না। ভাবলাম এক রাত্রেই যদি এই পরিমাণ পানি হয় তবে বর্ষাকালে এসব ওয়াসের উপর দিয়ে পানির তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে গাড়ী চলে কেমন করে? ড্রাইভার শুনে শুধুই হাসল, কিছু বলল না। এদিকের পাহাড় গুলোর বৈশিষ্ট্য একটু অন্য রকম। আমরা যেমন ভাঙ্গন ঠেকাতে স্তরে স্তরে বাঁশের খুঁটির বেড়া বা প্রাচীর দেই এটা প্রায় সেরকমই মনে হল। উপরের মাটি গুলো যেন নিচে ভেঙ্গে পড়ে না যায় সে জন্য মনে হয় প্রাকৃতিকভাবেই এরকম ব্যবস্থা। ঢাল বেয়ে উপরে উঠছিতো উঠছি। বেলা প্রায় এগারটার দিকে একটা বেশ বড় শহর-এ এসে গাড়ী দাঁড়াল। নাম জেমরা। তাড়াহুড়ার জন্য রাত্রে ডলার ভাঙ্গানো সম্ভব হয়নি। তাই এখান থেকে কিছু ডলার ভাঙ্গানো হল। তারপর আবার চলা। তার আগে মটরশুটির গোছা কেনা হল মুখ নড়ানোর জন্য। হঠাৎ করে ভোজবাজীর মতো পাহাড় হারিয়ে গেল চোখের চার পাশ থেকে। বুঝতে পারলাম যে রেদায় আসলে একটা মালভূমির মতো পাহাড়ের উপরের সমতল ভূমি। এবং এজন্যই পাহাড় অদৃশ্য হয়ে গেছে। সাথী বললেন, আমরা আর অল্প সময়ের মধ্যেই রেদায় শহরে পৌঁছে যাব। হঠাৎ করেই যেন প্রকৃতিও তার রূপ পাল্টিয়ে রুক্ষ পাহাড়ী পোষাক

« <
/ 114
> »