ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

ইয়েমেনের হৃদয়
তবলীগ জামাতের সাথীদের কাছে মার্কাজ অনেকটা মেয়ের কাছে মায়ের বাড়ীর মতো। কোন একটা রোখ শেষ করে জামাত মার্কাজে আসে দুই/এক দিন আরাম করে, বিশ্রাম, কাপড় চোপড় কাচা ইত্যাদি কাজ শেষ করে নূতন রোখ নিয়ে রওনা হয় আবার দাওয়াতী মেহনত নূতন এলাকায় নূতনভাবে শুরু করার জন্য। একটানা সত্তর দিন বাইরে থাকার পর আমাদেরও ইচ্ছা ছিল দুই/তিন দিন পরে রোখ নেব। ছয় তারিখ সোমবার বেলা দশটার পরপরই আমরা হুদাইদা মার্কাজে এসে পৌঁছালাম। আজ কোন কাজ নয় শুধু ঘুম আর ঘুম এরকম একটা মনোভাব সবার মধ্যে। মার্কাজ মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়ন চলছিল। একটা পাকিস্তানী জামাত কাজ শেষে দেশে ফিরে যাবে আগামীকাল। ওরা সাত জন ও ফরাসী তালেবে ইলেম ইয়াসিন ছাড়া মার্কাজের গেষ্ট হাউজ এক দম ফাঁকা। সুতরাং ভাই লাবীব এলে তাকে বিস্তারিত সব জানিয়ে ও পরামর্শ করে আমির সাহেব আমাদের বিশ্রাম নিতে বললেন। কিন্তু হা হাতোম্মি! আসরের নামায শেষে আমরা যখন মসজিদ থেকে আমাদের থাকার ঘরের দিকে যাচ্ছি, খবর এল যে, এখন মাশোয়ারা চলছে। আমাদেরও ওখানে যেতে হবে। শুনেই জাগল মনে ভয়, না জানি কি হয়। হলও তাই। মরুভূমি ও পাহাড় যেহেতু পার হয়েছি সুতরাং এবারের রোখ হল শহর এলাকায়। এখান থেকে তিনশত পঞ্চাশ মাইল পূর্ব দক্ষিণের শহর রেদায় আমাদের রোখ নির্দ্ধারণ করে মুরুব্বীরা আমাদের বিদায় দিলেন। ইয়েমেনে যে সকল প্রসিদ্ধ স্থান আছে সেগুলোর মধ্যে পুরাতন সানা যেখানে রানী বিলকিসের সাবা রাজ্য ও সিংহাসন ছিল, আদন অর্থাৎ এডেন বন্দর শহর, আমরান, সাবোয়া, ইব ও রেদায় অন্যতম। সুতরাং একটা ঐতিহাসিক শহরে রোখ হওয়ার কারণে খারাপ লাগল না। এশার নামায শেষে যখন খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফিরে আসছি তখন মার্কাজের একজন জিম্মাদার জানালেন, আগামীকাল বাদ ফজর আমাদের রেদায় এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হবে। এবার এখান থেকে রোখ শেষে সোজা সানায় চলে যেতে হবে। ফলে সকলেরই নিজের নিজের মাল সামানা গুছিয়ে নিতে হবে। জানতে চাইলাম, এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারণ কি? উত্তর এল রেদায় মার্কাজের সুরার এক সার্থী ভাই আবু রেজাল সুদান থেকে সময় লাগিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি কাল সকালেই তার নিজের বাড়ী চলে যাবেন। উনার বাড়ী যেহেতু রেদায়, সুতরাং তিনিই রাহবার হবেন এবং আমাদের জামাতের রোখ রেদায় হওয়ার পেছনেও তিনিই মুখ্য কারণ। সাথী ভাই আবু রেজাল রাত্রেই গাড়ী ঠিক করলেন। মাথাপিছু ভাড়া ১,১০০/- (এক হাজার একশত) রিয়েল। বাদ ফজর মাল সামানা গাড়ীতে তুলে আমরা যখন

« <
/ 114
> »