বিবাদ পেশ করছে। তারা আমার কাছে থাকার জায়গা চেয়েছে। আমি মুসলমান জিনদের হবসে এবং মুশরিক জিনদেরকে গওরে থাকার জায়গা দিয়েছি, রাবী বর্ণনা করেন গ্রাম ও পাহাড়ের নাম হবস এবং পাহাড় ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্থানকে বলা হয় গওর। হবসে বিপদে পড়লে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু গওরে রক্ষা নাই।” সুতরাং বুঝতে পারলাম যে এই এলাকায় যে সব জিন বাস করে তারা সবাই মুসলমান এবং এই এলাকা হবস এর আওতায় পড়ে।
আহম্মদ, বাযযার, আবু ইয়ালা ও বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে রেওয়ায়েত করেন “একব্যক্তি খয়বর থেকে মদীনার পথে রওয়ানা হলে দুই ব্যক্তি তার পিছু নিল। তৃতীয় এক ব্যক্তি বলল: তোমরা উভয়ে ফিরে যাও। অতঃপর সে পথিকের সঙ্গে মিলিত হয়ে বলল: এরা উভয়েই ছিল শয়তান। আমি ওদেরকে তোমার কাছ থেকে দুর করে দিয়েছি। রাসুলুল্লাহ (স.) কে আমার সালাম বলে দেবে, আর বলবে: আমি আমার কওমের যাকাত আদায় করেছি। জমা দেবার যোগ্য হয়ে গেলেই পাঠিয়ে দেব। লোকটি যখন রাসুলুল্লাহর (স.) কাছে পৌঁছাল এবং ঘটনা বর্ণনা করল তখন তিনি একাকী সফর করতে নিষেধ করে দিলেন”। তবলিগ জামাতে যে প্রথমেই সব সাথীকে জোড়া বেধে দেওয়া হয় এবং কোন অবস্থাতেই একা কোথায়ও বের হতে নিষেধ করা হয় তা সম্ভবত: এই ঘটনা থেকেই নিঃসৃত হয়েছে। ফিরে এসে আমির সাহেবকে সব বললাম। নামায শেষে সব মুসল্লিদের ভালভাবে দেখারও চেষ্টা করলাম। ছোট বেলায় শুনেছি, জিনদের নাকি ছায়া পড়ে না। অবচেতন মনে বিষয়টি বোধ হয় কাজ করছিল। কারণ লোকদের ছায়ার দিকেও আমি তাকাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনই লাভহল না। আমিও এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে আর আলোচনা করলাম না। ব্যাপারটা এখানেই ইতি পড়ল।
অনভ্যস্থ পাহাড়ী এলাকায় চলাফেরা করা সমতল ভূমির মানুষদের জন্য বেশ কষ্টকর। সবারই পা এর গোড়ালী ফেটে গেছে। কিছু সাথী দুর্বল ও অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। ফলে মাশোয়ারা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, হাতে সময় থাকলেও আর এখানে সময় না লাগিয়ে আমরা বরং হুদাইদা মার্কাজে ফিরে যাব। মরুভূমিতে বিশ দিন ও পাহাড়ে পঞ্চাশ দিন কাজ করা হয়েছে। সানাতেও কিছু দিন থাকতে হবে। ফলে এখানের পাঠ এখন শেষ করা প্রয়োজন। ফয়সালা শুনে ভাই আব্দুল্লাহ আলীরা আকাশ থেকে পড়লেন। ভাবলেন, তাদের আচরণে অথবা কোন কিছুর কমতি হয়েছে জন্য বোধহয় আমরা চলে যাচ্ছি। সত্যি কথা বলে শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্টে তাদের রাজী করানো হল। সিদ্ধান্ত হল, পাঁচ তারিখে আমরা এখান থেকে কানাবেজ মার্কাজে যেয়ে দ্বিমাসিক মাশোয়ারায় যোগ দেব এবং ছয় তারিখে হুদাইদা চলে যাব। সদ্য বাংলাদেশে সময় লাগিয়ে ফিরে আসা সাথী ভাই আব্দুল্লাহ সওকী দুপুরে তার বাড়ীতে খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন।
