ইয়েমেনে একশত বিশদিন

« <
/ 114
> »

দূরত্ব দুইশত গজের মতো। বড় বড় বোল্ডার দিয়ে সাজানো বলে মনে হয়। চূড়ার উপরে আমাকে ওরা প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাতে নিয়ে গেলেন। বেশ দূর্গম পথ। বড় কোন গাছ পালা একদমই নেই। পাথরগুলো এত মসৃন যে, পা পিছলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। অনেকের ধারণা এখানে জীনেরা বসে বসে এরকম মসৃণ করেছে। পরস্পরের হাত ধরাধরি করে উপরে উঠলাম। উত্তর দিকে একদম সোজা ঢাল অতলে নেমে গেছে। পশ্চিমে যে পাহাড়টা আছে সেখানে নাকি এক কালে প্রচুর বন্য প্রাণী থাকত। এখনও কিছু আছে। তবে দূর্গম এলাকা বলে কেউ ওদিকে মাড়ায় না। নিচে নামছি, হঠাৎ একটা দোতলা বাড়ী নজরে পড়ল। বাড়ীটার নিচের ঘরগুলোতে কোন জানালা নাই। প্রায় চারকোনা ও সমান সাইজের কালো পাথর দিয়ে বাড়ীটা তৈরি। দোতলার ছাদ নাই। ঘরের সামনে নিচু প্রাচীর। গেট ভেতর দিক থেকে বন্ধ এবং পাশাপাশি ঘর দুইটার সামনে মজবুত করে বানানো নক্সাদার দরজা দুইটাও ভেতর থেকে বন্ধ। থমকে দাঁড়ানো দেখে স্থানীয় সাথীরা তাড়াতাড়ি চলে আসতে বললেন। একজন কানের কাছে ফিস ফিস করে বললেন, জিনের বাড়ী। এখানে দেরী করার দরকার নাই, আশপাশের সবাই এটা জানে। থমকে দাঁড়ালাম। এ কেমন ব্যাপার। ফাঁকার মধ্যে না, সাধারণ লোক বসতির মধ্যে এ রকম একটা বাড়ী যা না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব না। আমরা কিন্তু ঘাবড়ালাম না। বরং গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে জোরে জোরে দাওয়াত দিলাম এবং বাদ আল মাগরীব বয়ানে শরীক হতে বললাম। সাথীরা বলল, আশে পাশের কোন বাড়ীর কোন ব্যাপারেই এরা হস্তক্ষেপ বা ক্ষতি করে না। সবাই সহ অবস্থানে বিশ্বাসী বলে মনে হল। অনেকের ধারণা জিনও মানুষের মতো একই খাবার খায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তাদের খাদ্য হাড্ডি ও গোবর। আল্লামা জালালুদ্দিন সযুতী লিখিত “খাসায়েসুল কুবরা ২য় খন্ডে” আবু নঈম ইবনে ওমর (রা.) এর রেওয়ায়েতে জানা যায়, জিনদের দূত একবার দ্বীপ থেকে এসে হুজুর (স.) এর নিকট কিছুদিন অবস্থান শেষে ফিরে যাওয়ার সময় পাথেয় প্রার্থনা করে। তিনি তার উত্তরে বলেন “আমার কাছে তো এই মূহূর্তে তোমাদেরকে দেবার মতো কিছু নাই। তবে তোমরা যে হাড্ডি পাবে তাতে গোস্ত এসে যাবে এবং যে গোবর পাবে, তা খোরমা হয়ে যাবে।” এ কারণেই হুজুর (স.) হাড্ডি ও গোবর দিয়ে এস্তেনজা করতে নিষেধ করেছেন। হঠাৎ করেই মানুষজনের এলাকায় জিনের বসবাসের বিষয়টি মনে পড়ে গেল। খাসায়েসুল কুবরা ২খন্ডে আবুশ শায়খ ও আবু নঈমের রেওয়ায়েতে বেলাল ইবনে হারেস বলেন, “একবার আমরা নবী করীম (স.) এর সাথে আরাজ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, আমি তাঁর নিকটে পৌঁছে কর্কশ কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পেলাম। মনে হচ্ছিল যেন অনেক মানুষ ঝগড়া বিবাদ করছে। হুজুর (স.) হেসে হেসে বললেন: “আমার সামনে মুসলমান জিন ও কাফের জিনরা তাদের

« <
/ 114
> »