গাস্ত ও সন্ধ্যার বয়ানের দায়িত্ব পড়ল। এ মসজিদটি ওগিয়ানের সোজা পশ্চিমে এবং সিয়েলার মত একই রকম উচ্চতায়। বিকালের দিকে মসজিদে যেয়ে দেখি, মসজিদে সংস্কার কাজ চলছে। নূতন একটি পানির রিজার্ভার তৈরি হচ্ছে কিন্তু কেমন যেন বাঁকা চোরা সাইজ। এরকম অদ্ভুৎ আকৃতি করে তৈরির কারণ জানতে চাইলাম। স্থানীয়রা বললেন, এখানে যে কোন কালে কবর ছিল তারা তা জানতেন না। মাটি কিছুটা খোঁড়ার পর মানুষের বেশ কিছু হাড় বেড়িয়ে পড়ে। সতর্কতার জন্য কিছুটা পাশে সরে যেয়েও আরো কবরের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ফলে আর জায়গা না থাকায় গর্তটাকে সুডোল করা সম্ভব হয়নি। মুরুব্বীদের ধারণা যে, ওগিয়ানে যে সকল মানুষ বসবাস করত তারাই তাদের মৃতদেহ এখানে সমাহিত করত এবং এই পুরাতন মসজিদও তাদেরই তৈরি। ঘটনাটা এ কারণে বিশ্বাসযোগ্য মনে হল যে, এ দিকের পাহাড়ী এলাকায় সব পাহাড়েই মসজিদ আছে। কিন্তু ওগিয়ানে নাই। তাছাড়া এত পুরাতন মসজিদ অথচ কেউ এর তৈরির বিষয়ে দাবীদার নাই। পাহাড়ে যারা প্রথমে বসতি স্থাপন করে তাদের বংশধরগণই ঐ পাহাড়ে পারিবারিকভাবে বসবাস করে এবং তারাই সব জায়গায় মসজিদ বানিয়েছে, এটাই দেখা যায়। কিন্তু এখানে এই মসজিদ সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারলেন না। এখানে একটা খুব পুরাতন গাছ লাগানো আছে। সবাই তুবা গাছ বলে এবং এ রকম গাছ আর আশে পাশে কোথায়ও দেখা যায়না।
একজন স্থানীয় মুরুব্বী বললেন, তার দাদারাও নাকি ছোট বেলায় গাছটিকে এ রকমই ও এত বড়ই দেখেছেন। গাছটিতে ফুল বা ফল হয়না। অনেকটা নূহ গাছের মতো, তবে চেহারা এক না, আর নূহ গাছগুলো খুব প্রাচীন হলেও তাতে ফুল ও ফল ধরে।
মসজিদে সিয়েলাতে দুইদিন থাকার কারণে পরবর্তী মসজিদ মোখতাহীনে আমাদের দুই দিনের পরিবর্তে এক দিন থাকতে হল। এ দিকের সব পাহাড়ই জাবালে নুয়েরার অংশ। এর প্রধান বৈশিষ্ট পাহাড়ের যে কোন একদিক একদম খাড়াভাবে নিচে নেমে গেছে। প্রকান্ড বড় বড় পাথরের টুকরা মাথার উপরের দিকে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তারপরও মাথার উপরে বেশ কিছুটা অংশ সমতলভাবে ছড়ানো এবং এখানে কোন বসতি নাই ও বাস করার মতো ব্যবস্থাও করা যায় না। একদম রুক্ষ এলাকা অথচ তেল তেলে গোল গোল বোল্ডার বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো। বড় কোন গাছপালা নেই অল্প কিছু ক্যাকটাস ও লতাগুল্ম ছাড়া।
মূল জামাত জাওয়ালাতে চলে গেছে, তিনজন স্থানীয় আরবী সাথীসহ আমির সাহেব আমাকে খুশুশি গাস্তে পাঠালেন মসজিদের পশ্চিম দিকের বসতিতে। রাহবার ও মোতারজেম ভাই আইউব এলাকার তবলীগের জিম্মাদার সাথী। দশ/পনরটা বাড়ীর পর আর বসতি নাই। ওখান থেকে পাহাড়ের চূড়ার
