চলে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা। আহমদ ব্যক্তিগতভাবে খুব অত্যাচারী ছিলেন এবং প্রজা উৎপীড়ন করতে ভালবাসতেন। ফলে একদিন পেছন দিকে মাযার নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন। তার ছেলেরা ছিল অলস এবং অপদার্থ। তারা এই এলাকা ছেড়ে ইয়েমেনে চলে যায় এবং পরবর্তী এক পর্যায়ে তাদের বংশধরদের দুর্ভাগের অংশ হিসাবে মানুষের বাড়ীতে পানি দেওয়ার কাজ পর্যন্ত করতে হয়েছে। যাহোক এত অত্যাচারের পরেও কিন্তু বেগম সাহেবা কোনভাবেই দূর্গ ছেড়ে যেতে রাজী হননি। একাই তিনি খুবই অনুগত কিছু লোকজনসহ ওখানে থাকতেন। জিনের অত্যাচারও বন্ধ হয়নি, বরং তাকেও স্বপ্নে অনেকভাবে জিনেরা এখান থেকে চলে যেতে বলেছে। কিন্তু বেগম সাহেবা অটল অনড় হয়ে রইলেন। জিনেরা মাঝে মধ্যেই রাত্রে ঘুমের মধ্যেই তাকে এ ঘর থেকে অন্য ঘরে অথবা অন্য স্থানে নিয়ে যেত, আবার মাঝে মধ্যেই আগুনের গোলা ছুঁড়ে মারত। কিন্তু বেগম সাহেবা আমৃত্যু ওখানেই থেকেছেন। তার মৃত্যুর পর দূর্গটি পরিত্যাক্ত হয় এবং আড়াইশত বছর ধরে ঐ ভাবেই পড়ে আছে। আহমদ দূর্গ থেকে বের হওয়ার জন্য সাধারণ রাস্তা ব্যবহার করতেন না। দুই/তিনটা গোপন সুরঙ্গ পথ ছিল। তিনি সেগুলি ব্যবহার করতেন। বেগম সাহেবার দূর্গ ত্যাগ না করার পেছনে কেউ কেউ মনে করেন যে, হয়ত স্বামীর স্মৃতি ছাড়াও কোন সুরঙ্গে অথবা অন্য কোন স্থানে গোপন সম্পদ ও ধনরত্ন লুকানো ছিল যার মায়া তিনি ত্যাগ করতে পারেন নি এবং সন্তানেরা অপদার্থ বিধায় তাদেরকেও সম্পদের খোঁজ জানতে দেননি। বছর ত্রিশ আগেও সুরঙ্গগুলো কিছুটা ব্যবহার যোগ্য ছিল কিন্তু এখন অসংখ্য পাথরের ভগ্নস্তুপের আড়ালে সবগুলো সুরঙ্গ হারিয়ে গেছে।
আল গাছিনা বংশটি মনে হয় গাসসান গোত্রেরই রূপান্তরিত রূপ। হুজুর (স.) ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে বিভিন্ন সম্রাট ও রাজা বাদশার কাছে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত পত্র প্রেরণ করেন। দমেস্কে হারেস গাসসানীর কাছে শুজা ইবনে ওয়াহাব আসাদী (রা.) পত্রসহ প্রেরিত হন। বাদশাহ হারেসের দেহরক্ষী হুজুর (স.) এর বর্ণনা শুনে ঈমান আনলেও হারেস পত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং ক্রুদ্ধ হয়ে সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলে। তারপর সে রোম সম্রাটকে তার, মনবাসনা জানায়। কিন্তু রোম সম্রাট তাকে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করে। ফলে সে দূত শুজা ইবনে ওয়াহাব আসাদীকে (রা.) কিছু পথ খরচসহ ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়। মক্কা বিজয়ের বছর অত্যাচারী ও দাম্ভিক বাদশা হারেস গাসসানী মারা যায়। আল গাছিনা বংশের পরাক্রমশালী দাম্ভিক গোত্রপতি আহম্মদ ইবনে ওসমান হয়তো ঐ বংশেরই পরবর্তী বংশধর।
মসজিদে সিয়েলাতে একদিনের জন্য এলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মানুষদের আন্তরিক অনুরোধে আমাদের দ্বিতীয় দিনও ওখানেই থাকতে হল। এদিন দুই মসজিদে বাদ মাগরিব বয়ান হল। স্থানীয় মাদ্রাসা মসজিদে আমাদের দুই সাথীর
