করত। ঘরের ও দেওয়ালের ক্ষতি হলে দিনে ওগুলো ঠিক করা হত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আর ওখানে থাকতে রাজী না হওয়ায় বাড়িটি থেকে ধন সম্পদ ও লোকজন সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দুইশত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় স্থানটি পরিত্যাক্ত হয়ে আছে। বর্তমানে তার পাশেই তিনটা টেলিফোন টাওয়ারসহ বড় প্রাচীর ঘেড়া স্থানটিতে কাউকেই দেখা গেল না। গেটে তালা ঝুলছে।
আমাদের সবার দাড়িতে পানি জমেছে শিশিরের বিন্দুর মতো। মাঝে মধ্যে দুই/এক ফোটা বৃষ্টিও পড়ছে। তবুও সবাই অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছি মেঘ সরে যাবার। এখান থেকে সামনের পাহাড় গুলোর মধ্যে আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি রহস্য ও বিভিন্ন ঢং এর গঠন বৈচিত্র দেখা যায়। কিন্তু দুই ঘন্টা অপেক্ষা করেও আমাদের কপালে সে দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হল না। মেঘের প্রাচীর সামনের কিছু দেখার কোনই সুযোগ দিলনা। মনে প্রচন্ড আফসোস নিয়ে শেষ পর্যন্ত গাড়ীর মুখ নিচের দিকে ফিরাতে হল। উর্দু শেয়ের মনে পড়ল “ওহি হোতা হায় যো মনযুরে খোদা হোতা হায়”। এতদিন মেঘ দেখতে ভাল লাগছিল। কিন্তু আজ সারাদিন মেঘকে অভিশাপ দিলাম। অতৃপ্ত মনে নিচে নেমে এলেও ভাঙ্গা দুর্গের বিষয়টি মন থেকে মুছে গেলনা। কিন্তু সব ভাল যার শেষ ভাল। ভাগ্যও আল্লাহর মেহেরবানী পেল। মসজিদে বায়তুল হাকামী ছাড়ার মাত্র পাঁচ দিন পরেই ওগিয়ন পাহাড়ের উত্তর দিকে প্রায় পাঁচশত গজ নিচে অবস্থিত মসজিদে সিয়েলা এ আমাদের রোখ পড়ল। একদিনের জন্য যাওয়া হবে তাই খুব বেশি কিছু আশা করিনি। কিন্তু ছাপ্পর ফেঁড়ে পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটল। গাস্তের পরে বিকালে দুই জন শিক্ষক এলেন যারা ঐ পাহাড়ের এ দিকের ঢালের মাঝামাঝি জায়গায় বাস করেন বংশানুক্রমে। তাদের দাদাদের কাছে তারা ঐ পরিত্যাক্ত দুর্গ-সম্পর্কে যে ঘটনা শুনেছেন সেটা এরকম।
তুর্কীদের আগমনের পূর্বে ‘আল গাছিনা’ বংশের রাজত্বকালে ইয়েমেনের এক পরাক্রমশালী গোত্রপতি আহমদ ইবনে ওসমান হঠাৎ করে এখানে এসে পাহাড়ের সৌন্দর্য্যে বিমুগ্ধ হয়ে এই পাহাড়ের মাথায় নিজের দুর্গ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। তখন যোগাযোগের মাধ্যম ছিল তুর্য বাদন। তিনি সৈন্যদের তুর্য বাজাতে আদেশ দেন। ফলে আশে পাশের সকল পাহাড়ের বাসিন্দা এসে হাজির হলে তিনি তাদেরকে ঐ পাহাড়ের মাথায় দূর্গ তৈরি করতে নির্দেশ দেন। রাত্রেই জিনরা তাকে স্বপ্নে জানায় যে, এটা জিনদের পাহাড় এবং তারা এখানে তাকে দূর্গ তৈরি করতে নিষেধ করেন। প্রচন্ড ক্ষমতাধর ও একগুয়ে আহমদ এটা বরদাস্ত করতে পারেননি। তিনি একটার বদলে ৩টা বহি: প্রাচীর নির্মাণের আদেশ দেন। জিনেরা অনেকভাবে বাধা দিলেও তিনি তা আমলে না এনে সুদান থেকে জিনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জিনের কিছু মুসলমান ওঝা ও পীর দরবেশ নিয়ে আসেন। দীর্ঘদিন উভয় পক্ষের মধ্যে শক্তি পরীক্ষা
