ফজরে হঠাৎ করে চারিদিক পরিস্কার হয়ে গেল। দূরে ওগিয়ান পাহাড়ের মাথায় আধভাঙ্গা দালান কোঠা ও টাওয়ার দেখা গেল। আলী ভাই খুব তাড়াতাড়ি নাস্তা করে নিতে বললেন। কিন্তু ‘কপালে আছে হাড় কি করবে চাচা খাজিনদার।’ গাড়ীতে উঠছি, যাব পাহাড়ের মাথায় জিনের অত্যাচারের চিহ্নসহ পরিত্যক্ত ঘর বাড়ী দেখতে, হঠাৎ ঘন ধোয়ার মতো মেঘ এসে আমাদের ঢেকে ফেলল। দেখতে দেখতে আশে পাশের সব কিছু অদৃশ্য হয়ে গেল ধোয়ার মধ্যে। প্রায় আধঘন্টা অপেক্ষা করলাম কিন্তু কোনই লাভ হল না। মেঘ বালিকার অত্যাচারের আজ চতুর্থ দিন। কাল সকালে চলে যেতে হবে অন্য মসজিদে। সুতরাং বিকল্প না থাকায় এর মধ্যেই গাড়ী রওয়ানা হল জাবাল ওগিয়ানের মাথার উদ্দেশ্যে। ক্ষীণ আশা, যদি এর মধ্যে মেঘ পরিস্কার হয়ে আসে।
খাড়া পাহাড়ের এবড়ো থেবড়ো পথে প্রচন্ড ঝাঁকুনী সহ্য করে যখন পাহাড়ের মাথায় পরিত্যাক্ত ভাঙ্গা ও অভিশপ্ত বাড়ীতে পৌঁছালাম- তখন হালকা মেঘ আবৃত করে রেখেছে পাহাড়কে। তার মধ্যেই দেখলাম, বিরাট বিদ্ধস্ত এলাকা জুরে বাড়ীকে বাইরে থেকে বেষ্টন করে রাখা পর্যায়ক্রমিক তিনটা প্রাচীর আধা ভাঙ্গা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরটা অনেকটা আগের দিনের দূর্গের মতো। উত্তর দক্ষিণে লম্বা পরিত্যাক্ত পাহাড়ী বড় বড় পাথরের তৈরি বাড়ীটির পূর্ব দিকের প্রাচীর সংলগ্ন পাহাড় একদম খাড়াভাবে নেমে গেছে গভীর অতলে। উত্তর দিকে পাঁচটা ঘর, দেয়াল প্রায় অক্ষত কিন্তু ছাদ নাই। মধ্যে পশ্চিম দিকে বেশ খানিকটা ফাঁকা জায়গা। স্থানীয় সাথীরা বলল, এটা খাবার ঘর ছিল। এর দক্ষিণে দুইটা করে চারটা কক্ষ। পাথর চাপা পড়ে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গেই বেশ বড় ইন্দারার মতো পাথরের পাকা গর্ত যা প্রায় দশ/বার হাত ব্যাস এবং চৌদ্দ/পনর হাত গভীর। নিচে নামার জন্য পাথরের সিঁড়ি আছে। পাথরের দেওয়াল পাথরকুচির সঙ্গে অন্য কিছু মিশিয়ে দিয়ে (সম্ভবতঃ চুন-সুরকির মিশেল) পলেস্তরা করা। তাতে অস্পষ্ট আরবীতে কিছু লেখা চোখে পড়ল যার পাঠোদ্ধার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হল না। খাওয়ার ঘরের সংলগ্ন পূর্ব দিকের বড় ঘরটির সঙ্গে আগেরটার মতো দুইটা দশ হাত বাই বার হাত গভীর গর্ত। এটাও সুন্দরভাবে পাথরকুচি দিয়ে পলেস্তরা করা। এতে নিচে নামার কোন সিঁড়ি নাই। এর গায়েও কিছু লেখা আছে সন তারিখসহ। কিন্তু এগুলোরও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হল না। স্থানীয় লোকজন বলল, এই দুই গর্তে দূর্গের সমস্ত মূল্যবান সামগ্রী ও ধন দৌলত রাখা থাকত। এর উত্তরে তিন তলা সেন্ট্রিপোষ্ট (পাহারা চৌকি)। নিচের দুই তলা ঠিক থাকলেও উপর তলা ভাঙ্গা। চারদিকের দেওয়ালে চারটা ফোকর আছে এবং কোন জানালা নাই। উঠার সিঁড়ি নষ্ট হয়ে গেছে পাথরের স্তুপের চাপে অথবা মনে হয় প্রচন্ড জিনের অত্যাচারের ফলে। শুনলাম, রাত্রি হলে প্রায়ই বড় বড় আগুনের গোলা এসে বাড়ীর বিভিন্ন স্থানে আঘাত
