জিনের রাজ্য
মাসাদ মসজিদের সাথীরা তিনদিন সময় লাগিয়ে চোখের পানিতে আমাদের বুক ভিজিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এলাকার সাথীদের ইচ্ছার চাপে আব্দুল্লাহ আলী ভাই মাশোয়ারা করে এ মসজিদেও তিন দিন থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। মঙ্গলবার ইনশাআল্লাহ সাতাশতম মসজিদ বায়তুল হাকামীতে যেতে হবে। এটার অবস্থান বর্তমান পাহাড়ের চেয়েও আরো উঁচুতে। টেলিফোনের একটা টাওয়ার আছে ওখানে। জনবসতিও বেশি। দেখি, আল্লাহ কি ফয়সালা করেন।
গত দুই দিন এলাকায় গাস্ত হয়েছে। তাই আজ সিদ্ধান্ত হল, অল্প কিছু দূরের পাহাড় আল গাজীতে জাওলায় যাওয়ার জন্য। অনেকটা বাংলা চার এর মতো বাঁকানো রাস্তায় মাইল দেড় দুই দূরত্ব কিন্তু সোজা রাস্তা হলে হয়ত পাঁচশত গজ হত। এখানে দুই জন শিক্ষকের সঙ্গেও আলাপ হল। বিকালের দিকে ঘন কুয়াশার মতো মেঘে পুরা এলাকা অন্ধকারে ঢেকে গেল। গায়ে ঠান্ডার হালকা পরশ। যখন এক পশলা মেঘ কেটে যাচ্ছে তখন কিছু এলাকা দেখা হচ্ছে। বাকি অংশ সাদা ধোয়াটে। বাতাসের সাথে মিশে থাকা হালকা মেঘের উড়ে বেড়ানো দেখতে মজাই লাগল।
এই এলাকার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় জাবাল ওগিয়ানের প্রায় মাথার কাছে মসজিদে বায়তুল হাকামী। বেশ বড়ই মসজিদ। সঙ্গেই লাগানো প্রাচীন ছোট মসজিদ। হয়ত দশ/বার জন কোন রকমে নামায পড়তে পারতেন। এখানের প্রায় প্রত্যেক মসজিদের সঙ্গেই আদ্দি কালের ছোট্ট মসজিদ গুলোকে অক্ষতভাবে রাখা আছে। বায়তুল হাকামীতে আমরা মেঘের আস্তরণকে গায়ের চাদর বানালাম। প্রায় সবসময়ই মেঘ গোটা পাহাড় ঢেকে রাখছে। হঠাৎ করে কোন সময় আকাশ দেখা যাচ্ছে। চপলা বালিকার মতো এলোমেলো বাতাস ছুটে বেড়াচ্ছে মেঘের আঁচল উড়িয়ে। মাঝে মধ্যেই হঠাৎ করে আঁচল সরে যাচ্ছে, পরক্ষণেই আবার আঁচল গায়ে টেনে নিচ্ছে। এই মেঘের লুকোচুরির মধ্যেই এলাকার মানুষ সংসার করছে, জমিতে এক গরুর সাহায্যে বিশেষ ধরনের লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করছে, জমির পাথর তুলে আইল বানিয়ে জমিকে চাষ যোগ্য করার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মেয়েরা মাথায় করে গ্যালন ভর্তি পানি নিয়ে নিশ্চিন্তে হেঁটে যাচ্ছে। মোটরে করে দোকানীরা শাকসব্জি ফলমুলসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি শেষ করে আবার অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। এমনকি ছেলে-মেয়েদের দুই/তিন মাইল দূরের মাদ্রাসায় যাওয়াও বন্ধ নাই। আমাদের প্রথম দিন এভাবেই কাটল। রাতেও এর ব্যত্যয় ঘটল না।
