অধিষ্ঠিত করা যায়। আল্লাহ এ ফিকিরও কবুল করেছেন এবং সারা দুনিয়ার পাঁচটি মহাদেশেই আজ তবলীগের মেহনত চলছে। অসংখ্য মানুষ এখন দ্বীনের এই মেহনতের মহাযাত্রায় শরীক হয়েছেন। নিজেদের জীবন ও জিন্দেগীকে আবার প্রকৃত ইসলামী ধাঁচে ঢেলে সাজাচ্ছেন। এই জীবন ও মৃত্যু-পরবর্তী চিরস্থায়ী জীবনকে শান্তি সুখের আশ্রয়স্থল করে তৈরি করে নিচ্ছেন। এরপর জেনারেল সালবানি আমাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বললেন। এই পাহাড়ী এলাকায় কোন বিদেশী জামাত এ পর্যন্ত আসেনি। আমাদের এই সফরকে তিনি এভাবে মূল্যায়ন করলেন, “বিদেশী তবলীগ এর সাথীদের মধ্যে আপনারাই এই এলাকায় প্রথম, সুতরাং আমি এটাকে কোন কাজের উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে ‘ফিতা কাটার’ সঙ্গে তুলনা করতে চাই। আপনারাই প্রথম এসে এখানে ফিতা কেটে ভবিষ্যতে বিদেশী জামাত যেন এখানে এসে কাজ করতে পারে তার উদ্বোধন করলেন। দোওয়া করুন যেন এলাকায় এখন থেকে বিদেশী জামাত আসে এবং সকল মানুষকে প্রকৃত দ্বীনের উপর উঠার জন্য প্রয়োজনীয় মেহনত করে। আল্লাহ পাক সবার পরিশ্রমকে কবুল করুন।”
ব্যস্ত মানুষ, হাতে সময় কম। তিন দিন আমাদের সঙ্গে সময় লাগাতে চেয়েছিলেন কিন্তু এর মধ্যেই ওয়ারলেস এল, তাঁকে এখনই চলে যেতে হবে। সম্ভব হল না জন্য আফসোস করলেন। এক সময় সবাই চলেও গেলেন, কিন্তু আমরা আমাদের মনের মাঝের ঘোর কাটাতে পারলাম না। সত্যিই তো! আমরা তো ফিতাই কাটলাম। কিন্তু যে ধরনের দিল-মন উজার করে; ভালবেসে ও ফিকিরবান হয়ে মেহনত করা দরকার ছিল, আমরা কি তা করতে পেরেছি? আমাদের কমতি, আমাদের অপূর্ণতা, অথবা আমাদের অক্ষমতা বার বার মনের মাঝে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছিল। কিন্তু উত্তর পাচ্ছিলাম না। শুধু এটুকু বললাম, আল্লাহ! তুমি তো জান যে আমরা দুর্বল, আমরা অক্ষম, আমরা অসহায়। তোমার মেহেরবানী ছাড়া আমাদের আর কোনই ক্ষমতা নেই। হে মেহেরবান! তোমার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের অক্ষমতাকে সমৃদ্ধ করে দাও, তোমার সর্বময় ক্ষমতার এক বিন্দুর পরশে আমাদের কাজ করার যোগ্যতা পয়দা করে দাও। তোমার মেহেরবানী দিয়ে আমাদের অসহায়ত্বকে সবল করে দাও। যে কাজের জন্য দেশ, পরিবার পরিজন, ব্যবসা, ক্ষেত খামার, চাকুরীর মায়াকে পিছে ফেলে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিদেশের মাটিতে দ্বীনের রাস্তার উপর এনে দাঁড় করিয়েছ, তোমার নিজ করুণায় তাকে সাফল্য মন্ডিত কর। আমিন।
